ঢাকা, ২৭শে সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৯ই সফর ১৪৪২ হিজরি

সীতাকুণ্ডে ২ মাসে দুই গর্ভবতী মায়ের মৃত্যু

আইন-আদালত

প্রতিদিন


প্রকাশিত: ৩:৩২ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০১৯

এম কে মনির,সীতাকুণ্ড, চট্রগ্রাম
চোখের পলকে সুখ রুপ নিল দু:খে।যেখানে সবাই হাসার কথা থাকলেও কাঁদতে হলো সবাইকে।যেখানে আনন্দের জোয়ার বয়ে যাওয়ার কথা সেখানে দু:খের সাগরে ভেসে গেল সকলে।নতুন মুখকে বরণ করে নেওয়ার জন্য প্রস্তুুত ছিল পরিবারের সকলেই।কিন্তুু কে জানত একজনকে বরন করে অন্য জনকে চিরতরে হারাতে হবে।এ চিন্তা ছিল সকলের আন্দাজের বাইরে।এমনই দুটি ঘটনা ঘটেছে সীতাকুণ্ড উপজেলার পৌরসদরে।গত ২৬/১১/২০১৯ রোজ মঙ্গল বার রাত আনুমানিক ২ ঘটিকার সময় উপজেলার সীতাকুণ্ড পৌরসভার মধ্যম মহাদেবপুর গ্রামে সন্তান প্রসবকালে এক মায়ের মৃত্যু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে সীতাকুণ্ড পৌরসভার মধ্যম মহাদেবপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা কার্পেন্টার মিস্ত্রি মো: ওমর খানের স্ত্রী মোছাম্মৎ শিরিন আক্তার (৩৫) এর মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়।এসময় রোগী মাটিতে গড়াগড়ি করতে থাকে।একসময় মোছাম্মৎ শিরিন আক্তার খিঁচুনি রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।রোগীর শরীরে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।হাত পা সাদাটে হয়ে ওঠে।।এসময় রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় পথে গাড়িতেই সন্তান প্রসবের পর মারা যায়।সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোছাম্মৎ শিরিন আক্তারকে মৃত ঘোষনা করে।অপরদিকে একই ঘটনা ঘটেছে সীতাকুণ্ড পৌরসভার শেখপাড়া গ্রামে।তথ্যসূত্রে জানা যায় সীতাকুণ্ড পৌরসভার শেখপাড়া গ্রামের নজীর আহম্মদ বাড়ির শামসুল আলমের বড় পুত্র প্রবাসী সালাউদ্দীনের স্ত্রী ফারজানা আক্তার (২৪) গত ০৬/১০/২০১৯ তারিখ চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে সন্তান প্রসবের ৫দিন পর মারা যান।তবে ফারজানার মৃত্যুর কারণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রসঙ্গত সন্তান প্রসবের কিছুদিন আগে ফারজানা আক্তারের হার্টে দুইটি বল্ক ধরা পড়ে।যার ফলে ফারজানার মৃত্যু হয়েছে
বলে জানান চিকিৎসকরা।তবে প্রসব কালে মারা যাওয়া এই দুই জন মায়ের সন্তানই সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রসবকালে এমন মৃত্যুকে বিজ্ঞানের ভাষায় মেটারনাল ডেথ বলা হয়ে থাকে।আর কিছু নির্দিস্ট কারণে এ ধরণের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।বাংলাদেশে এ মৃত্যুর হার কম নয়।জরিপ বলছে বাংলাদেশে প্রতিবছর ৫২০০ জন নারীর মৃত্যু হয় গর্ভকালীন,প্রসবকালীন, প্রসবের পর সময়ে।তবে মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। তবুও এই মৃত্যুর হার শূণ্যের কোটায় নামানো যাচ্ছে না।চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে প্রসবকালীন সময়ে মায়ের রক্তক্ষরণ শুরু হলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।এসময় চিকিৎসক যদি রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে রোগীর মৃত্যু ঘটে।প্রসবকালে এ ধরণের রক্তক্ষরণকে অবস্ট্রেট্রিকেল হেমারেজ বলে।চিকিৎসকদের মতে গর্ভবতী মায়েদের জন্য প্রয়োজন বাড়তি যত্ন। পর্যাপ্ত ঘুৃম,বিশ্রাম ও পুষ্টিকর খাওয়া না হলে হতে পারে মাতৃমৃত্যু ও নবজাতকের মৃত্যুও।তাই সকলের সচেতনতা জরুরি।

 120 total views,  3 views today