বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন

শুধু সীতাকুণ্ডে নয় বাংলাদেশের গণমানুষের নেতা ছিলেন মরহুম ইঞ্জিনিয়ার এল কে সিদ্দিকী।

শুধু সীতাকুণ্ডে নয় বাংলাদেশের গণমানুষের নেতা ছিলেন মরহুম ইঞ্জিনিয়ার এল কে সিদ্দিকী।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শুধু সীতাকুণ্ডে নয় বাংলাদেশের গণমানুষের নেতা ছিলেন মরহুম ইঞ্জিনিয়ার এল কে সিদ্দিকী

আজ সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী ।সাবেক মন্ত্রী ও ডেপুটি স্পীকার , বিএনপি’র সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান , সাবেক সংসদ সদস্য , প্রবীণ রাজনীতিবীদ ইঞ্জিনিয়ার আবুল হাসনাত লুৎফুল কবির সিদ্দিকী ওরফে এল কে সিদ্দিকী গত ১ লা আগষ্ট ২০১৪ ইংরেজি তারিখে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় ১০.৪৫ ঘটিকায় ইন্তেকাল করেন । ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন ।

মরহুম ইঞ্জিনিয়ার এল , কে সিদ্দিকী ১৯৩৯ সালের ১৫ ই এপ্রিল চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডের দক্ষিণ রহমত নগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন । উনার পিতার নাম মরহুম আবুল মনসুর লুৎফে আহমেদ সিদ্দিকী । তিনি সীতাকুন্ড উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৫৪ সালে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হন । ১৯৬১ সালে ঢাকার আহসান উল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং- এ ডিগ্রী লাভ করেন । তিনি ১৯৬০-৬১ সালে আহসান উল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ছাত্র সংসদের সভাপতি ছিলেন । তিনি ১৯৬১-৬৬ সাল পর্যন্ত গ্যামনস ইষ্ট পাকিস্তান লিমিটেড- এ কাজ করেন । এছাড়া , জনাব এল কে সিদ্দিকী ১৯৬৬-৭০ সাল পর্যন্ত ( স্বল্পমূল্যে গৃহায়ন ) বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী হিসেবে লিবিয়ায় দায়িত্ব পালন করেন । তিনি ১৯৭০ সালে দেশে ফিরে প্রকৌশলী উপদেষ্টা পেশায় জড়িত হন । তিনি বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউশনের আজীবন সদস্য । এছাড়া জনাব এল কে সিদ্দিকী ১৯৭৩-৭৫ সালে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউশন , চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনারারী সাধারণ সম্পাদক ও ৭৫-৭৬ সালে ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন । তিনি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউশনের উনবিংশতম বার্ষিক কনভেনশনে কনভেনশন সেক্রেটারী ছিলেন । তিনি রােটারী চট্টগ্রাম জেলার গর্ভনর ছিলেন । জনাব মরহুম ইঞ্জিনিয়ার এল কে সিদ্দিকী ১৯৭৩ সালে কমনওয়েলথ ইঞ্জিনিয়ার্স কনফারেন্স ( সিইসি ) লন্ডন , আমেরিকার নিউইয়র্কে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব ইঞ্জিনিয়ারিং অরগানাইজেশনের চতুর্থ সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিত্ব করেন । তিনি ১৯৭৩ সালে ভারতের মাদ্রাজে ইনষ্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডিয়ার ৫৩ তম বার্ষিক কনভেনশনে ও ৭৫ সালে ভারতের লক্ষ্যেতে ইনষ্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডিয়া ৫৫ তম বার্ষিক কনভেনশনে যােগদান করেন । এল কে সিদ্দিকীর রাজনৈতিক কর্মকান্ড ও তিনি ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নিবার্চিত হন ।

একই বছর তিনি জাতিসংঘের ৩৪ তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং আন্তর্জাতিক শিশুবর্ষের উপর বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দানসহ ইন্টারন্যাশনাল পার্লামেন্টারী ইউনিয়নের বিশেষ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন । তিনি ১৯৮০ সালে বিদ্যুৎ , পানি সম্পদ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন । তিনি ১৯৮১ সালে সেচ , পানি সম্পদ উন্নয়ন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিযুক্ত হন । তিনি ১৯৮০-৮২ সালে ভারতের সাথে যৌথ নদী কমিশনের কো – চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন । ১৯৮৪-৯০ সালে তিনি । চট্টগ্রাম শত নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন । তিনি ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন । ১৯৯১-৯৬ সালে জাতীয় সংসদের সরকারী হিসাব সম্পর্কিত কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন । তিনি ১৯৯১-৯৬ সালে জাতীয় সংসদের পিটিশন কমিটির সদস্য ছিলেন । একই সময়ে তিনি সেচ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন । ১৯৯২-৯৪ সালে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন । ১৯৯৬ সালে ৬ ষ্ঠ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন । এবং ডেপুটি স্পীকারের দায়িত্ব পালন করেন । তিনি ২০০১ সালে ৮ তম জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং একই বছরে ১০ অক্টোবর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন । ২০০৩ সালের মে মাসে তিনি মন্ত্রী সভার সদস্য পদত্যাগ করেন । বিভিন্ন সময়ে বিএনপির দায়িত্ব ও ১৯৭৯-৮৪ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ১৯৮৪-৮৬ সালে কোষাধ্যক্ষ ছিলেন । তিনি ১৯৮৬-৮৮ সালে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক , ৮৮-৯৩ সালে পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য এবং ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন । তিনি ১৯৮৮ সালে দলের মুখপাত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে সফর করেন এবং স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করেন । তিনি ফেলে আসা দিনগুলি ও অন্যান্য , সাতকথা, ও সময়ের অসঙ্গতি গ্রন্থ রচনা করেছেন । উনার পরিবার ও তার স্ত্রী মাহমুদা সিদ্দিকী একজন সমাজসেবী এবং আন্তর্জাতিক ইনার হুইলের ডিরেক্টর ছিলেন ( ২০০৩-২০০৪ ) তার ১ কন্যা ইবতেসাম সিদ্দিকী এম , কম ( একাউন্টিং ) জাপানে বসবাসরত , ৩ পুত্রঃ ব্যারিষ্টার আফফান আহমেদ সিদ্দিকী , আর্কিটেক্ট আকসিন আহমেদ সিদ্দিকী , কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার এইলান আহমেদ সিদ্দিকী।

উনার মৃত্যুতে দীর্ঘ ৭ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত সীতাকুণ্ড সহ সারা দেশের মানুষ উনাকে স্মরণ করে। দেশের উন্নয়নে সব সময় উনার সুদৃষ্টি ছিল।দল-মত-নির্বিশেষে সর্বমহলে তাঁর পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতা ছিল।তিনি সীতাকুণ্ড এলাকা থেকে চার বারএমপি নির্বাচিত হন এবং দু’বার মন্ত্রী ও একবার ডেপুটি স্পীকারের দায়িত্ব পালন করেন।ইঞ্জিনিয়ার এল. কে. সিদ্দিকী ছিলেন একজন প্রথাবিরোধী ভিন্ন প্রকৃতির রাজনৈতিক নেতা। সকল প্রকার অনিয়ম ও ঘুষ-দুর্নীতির বিপরীত শিবিরে ছিল তাঁর শক্তিশালী অবস্থান। শুধু কথা নয়, তিনি কাজে বিশ্বাসী ছিলেন। অত্যন্ত সৎ ও ন্যায়পরায়ণ এ মানুষটি ছিলেন আকাশচুম্বি ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তার মধ্যে কোনো ভণ্ডামি ও বহুরূপী মনোভাব ছিল না। উনি দায়িত্ব পালন করা কালীন সময়ে দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে সব সময় দেশের উন্নয়নে কাজ করেছিলেন।মরহুম ইঞ্জিনিয়ার এল কে সিদ্দিকী শুধুমাত্র সীতাকুণ্ডের নেতা ছিলেন না ছিলেন না, উনি ছিলেন বাংলাদেশের গণমানুষের নেতা।

আমি মরহুম এই জননেতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মহান আল্লাহতায়ালার দরবারে জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করছি।

লেখক:

লায়ন এড মোঃ সরোয়ার হোসাইন লাভলু,

এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট,

কার্যনির্বাহী সদস্য, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি।

আইন বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, সীতাকুণ্ড পৌরসভা।

সিম্পোজিয়াম ও সেমিনার বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম চট্টগ্রাম।

 11,630 total views,  1 views today

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© আইন আদালত প্রতিদিন। সর্বসত্ব সংরক্ষিত।
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web