মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২০, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
এই অসহায় প্রতিবন্ধী ওয়াসিমের আর্তনাদ শুনার মত কি কেউ আছেন? কলাপাড়ায় অটো ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত-৬ কলাপাড়ায় বিদ্যুতায়নের উদ্বোধন করলেন এমপি মহিব দিশারি যুব ফাউন্ডেশনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২০ এর শুভ উদ্বোধন সীতাকুণ্ডে ঈদ প্রীতি ম্যাচ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত আজ সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার এল. কে. সিদ্দিকীর ৭মমৃত্যুদিবস কলাপাড়ার টিয়াখালীতে ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে বিশেষ ভিজিএফ’র চাল বিতরন কলাপাড়ায় ঘেরে মাছ ধরতে বাধা দেওয়ায় ঘের মালিক কে কুপিয়ে জখম কলাপাড়ায় করোনায় ব্যবসায়ীর মৃত্যু কলাপাড়ায় ক্লিনিক ও ডায়গনষ্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান।
বাজেট প্রত্যাখ্যান করলো বিএনপির সংসদ সদস্যরা

বাজেট প্রত্যাখ্যান করলো বিএনপির সংসদ সদস্যরা

২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেট জনগণের বাজেট নয় উল্লেখ করে এই বাজেট প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা। বুধবার, জুলাই ১, ২০২০ জাতীয় সংসদের মূল গেটের সামনে বাজেট প্রতিক্রিয়া নিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তারা।

সূচনা বক্তব্যে বিএনপির সিনিয়র সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, গত একশো বছরে পৃথিবীতে এই দুর্যোগে মহামারি আমরা দেখিনি। গতকার আমরা দেখেছি বাজেট পাশ হয়েছে। এই বাজেট জনগণকে ফাঁকি দেয়ার জন্য এই বাজেট। আমরা যারা মূল বিরোধী দল বিএনপির সংসদ সদস্য আছি, আমরা যাতে সংসদে এই বাজেট নিয়ে কথা না বলতে পারি, সমালোচনা করতে না পারি সেজন্য মাত্র একদিনের জন্য সাধারণ বাজেট আলোচনা করা হয়। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন আলোচনাবিহীন বাজেট কখনো পাশ হয় নাই। আজকে এই মহান সংসদের সামনে দাঁড়িয়ে বলছি, আমরা জনগণের পক্ষে এই বাজেট প্রত্যাখান করছি।

বিএনপির আরেক সাংসদ হারুনুর রশীদ বলেন, বিএনপির সাংসদদের মধ্যে আমাকে সংসদে খুব অল্প সময়ের জন্য বাজেট বক্তৃতায় কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। এই বাজেটের বক্তৃতায় এক পর্যায়ে স্পীকার আমার মাইক বন্ধ করে দিয়েছেন। আমরা বাজেট ঘোষণার আগে একটা প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে, এই বাজেট অধিবেশন ভার্চুয়াল করার জন্য কিন্তু সেটা করা হয়নি। আমাদের সাংসদদের এই বাজেট প্রতিক্রিয়া নিয়ে কথা বলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমরা শুধু এটুকু বলতে চাই, যারা মহাজোটের শরীক তারাই বিরোধী দলে অংশগ্রহণ করছে। তার ফলে জনগণের যে সংকট সেটি সত্যিকার অর্থে সংসদে প্রতিফলিত হচ্ছে না। তিনি বলেন, আমারা যে কয়েকজন সদস্য সেটা বলার চেষ্টা করি সেখানে আমাদের সঠিক সময়টুকু আমাদের দেয়া হচ্ছে না। এই সংকটের মধ্যে যারা জাতিকে পরামর্শ দিতে চায় তাদেরকে সরকার তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করছে। আমরা সংসদে দাড়িয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি জানিয়েছি এবং গোটা স্বাস্থ্য বিভাগকে সংস্কারের কথা বলেছি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এই নিয়ে কোন কথাই বলেনি। আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে এই সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, অতিসত্তর করোনা মোকবিলার জন্য আমাদের রোডম্যাপ দিতে হবে। আমরা অবিলম্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি এবং গতকাল যে অপ্রত্যাশিত এবং অকল্পনীয় ঘোষণা করা হয়েছে সেটা প্রত্যাখ্যান করছি।

লিখিত বক্তব্যে বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, বাজেট অধিবেশন সংসদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন। এই অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে বাজেটের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ জাতির স্বার্থেই খুব জরুরি। করোনাকালীন স্বাস্থঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে এবারের বাজেট অধিবেশন অতি সংক্ষিপ্ত করতে চেয়েছে সরকার। কিন্তু আমাদের পক্ষ থেকে এই অধিবেশন ডিজিটাল বা ভার্চুয়ালি করার প্রস্তাব দিলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। গত ১৫ই জুন অনির্ধারিতভাবে ২৩ জুন পর্যন্ত বর্তমান অধিবেশন মুলতবি করে মাত্র এক দিন (২৩ জুন) বাজেটের সাধারণ আলোচনা করা হয়েছে। এটা অকল্পনীয়। আমাদের বিশ্বাস করোনার মতো ভয়ঙ্কর একটা সংকটে যে যাচ্ছেতাই বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটার সমালোচনা এড়ানোর জন্যই অধিবেশন সংক্ষিপ্ত করে তড়িঘড়ি করে শেষ করতে চেয়েছে সরকার। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসেতো বটেই স্বাধীনতার পর এতটা গুরুত্বপূর্ণ একটা বাজেট এই জাতির জীবনে আসেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দেশ স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে পড়েছে, সেটার কারণে অর্থনৈতিক সংকটকে মাথায় রেখে বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে, কিন্তু দেশের চরম অভ্যন্তরীণ সংকট এবং একই সাথে সারা পৃথিবীর সংকট মিলিয়ে এবারের মত পরিস্থিতি এই জাতির ইতিহাসে আর আসেনি। আমাদের মনে রাখতে হবে এমনিতেই চরম লুটপাটের কারণে দেশের অর্থনীতি প্রায় ধ্বংসের কিনারায় পৌঁছে গিয়েছিল। করোনা আসার আগেই পুরো ২০১৯ সাল জুড়ে আমরা দেখেছি শুধুমাত্র রেমিট্যান্স ছাড়া সামষ্টিক অর্থনীতির আর সবগুলো সূচক যেমন রপ্তানি আয়, আমদানির পরিমাণ (বিশেষ করে মূলধনী যন্ত্রপাতি), বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ, বেসরকারি বিনিয়োগ, অভ্যন্তরীণ ভোগ কমে যাচ্ছিল। এমনিতেই ভেঙ্গে পড়া অর্থনীতির সাথে করোনার অভিঘাত যুক্ত হবার ফল হবে ভয়ঙ্কর। এই পরিস্থিতিতে যে অসাধারণ সৃজনশীলতা এবং আন্তরিকতা নিয়ে এই বাজেট দিয়ে এই বাজেট করা প্রণয়ন করা অত্যাবশ্যক ছিল, বলা বাহুল্য তার কিছুই হয়নি। বরং সব সময়ের মতো একটা প্রাক্কলিত জিডিপির ভিত্তিতে বাজেটের ব্যয়ের খাতগুলোর বরাদ্দ আনুপাতিকভাবে বাড়িয়ে যে বাজেট তৈরি করা হয়েছে সেটাকে প্রতিবারের মতো গতানুগতিকও বলা জায় না। এটা ¯্রফে স্বপ্নবিলাস, কল্পণাবিলাস।

রুমিন ফারহানা বলেন, একেবারেই নতুন একটা পরিস্থিতিতে এই বাজেট ঠিক কেমন হওয়া উচিত, সেটার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ দিকনির্দেশনা সমাজের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছে। অর্থনীতির থিংকট্যাংক এবং অর্থনীতিবিদরা নানা রকমনভাবে সরকারকে পথ দেখাতে চেষ্টা করেছ্নে। পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি নামের দলটিকেই নিশ্চিহ্ন করে ফেলতে চেয়েছে। বিচারবহিভর্‚তভাবে বহু নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে, গুম করেছে, অসংখ্য নেতাকর্মীকে জেলে নিয়েছে, হয়রানিমূলক মামলা দিয়েছে। দলটির চেয়ারপারসনকে দুই বছরের বেশি সময় মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ রেখেছে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধেও আছে বহু মিথ্যা মামলা। কিন্তু জাতির এই সংকটে বিএনপি তার ওপর এই অত্যাচারের কথা ভুলে সরকারের সাথে একসাথে কাজ করার চেষ্টা করেছে। বিএনপি আসন্ন বাজেটে কেমন হওয়া উচিত, সেটা নিয়েও আগাম প্রস্তাবনা দিয়েছিল ৯ জুন। এতে আমরা সুনির্দিষ্ট পুনরুদ্ধার পরিকল্পণা সমৃদ্ধ তিন বছরের একটি মধ্য মেয়াদী বাজেট রুপরেখা দিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার বরাবরের মতো তার চরম কর্তৃত্ববাদী চরিত্র বজায় রেখে বিএনপির পরামর্শগুলো আমলে নেয়নি।

তিনি বলেন, সরকার যে বাজেট প্রস্তাবনা সামনে এনেছে, সেটা একমাত্র ক্ষমতাসীন দল ছাড়া আর কেউ কোনভাবেই একটা সংকটকালীন বাজেট হয়েছে বলে রায় দেয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রত্যেকটি ক্ষেত্র থেকে বলা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেট করো।

 36 total views,  1 views today

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© আইন আদালত প্রতিদিন। সর্বসত্ব সংরক্ষিত।
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web