সোমবার, ২৭ Jun ২০২২, ০৩:১৭ অপরাহ্ন

বাঁশির সুরেই চলে কবিরের সংসার

বাঁশির সুরেই চলে কবিরের সংসার

Spread the love

কাঁধে ঝুলানো হরেক রকম বাঁশি ভর্তি ব্যাগ। আপন মনে সুর তুলছেন। সুরের জাদুতে তাকে ঘিরে জমেছে ভিড়। কারো প্রিয় গানের সুর তোলার আবদার, কেউবা কেনেন বাঁশি। জীবন-জীবিকার তাগিদে হাটে-মাঠে ঘুরে এভাবেই বাঁশিতে সুর তোলেন বাঁশিপ্রেমিক কবির সরকার (৪৯)। ৩১ বছর ধরে বাঁশির সাথে মিতালী তার।

প্রথমে শখের বসে শিখেছিলেন বাঁশি বাজানো। আর এখন বাঁশির সুরেই চলে সংসার। কবির সরকারের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদ নগর থানার রোয়াচালা গ্রামে। বর্তমানে ঢাকার গাজীপুরে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন তিনি।

গেল রবিবার বিকেলে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা সদরে বাঁশি বিক্রি করতে আসেন কবির সরকার। তার সাথে কথা হলে তিনি ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’কে বলেন, ছোটবেলা থেকেই বাঁশির প্রতি দুর্বলতা ছিল তার। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাঁশি বাজানোর চেষ্টা করেন তিনি। পরে ওস্তাদ সিরাজ মিয়ার কাছ থেকে তালিম নিয়ে আয়ত্তে আনেন সুর।
এরপর বিভিন্ন গানের দলের সাথে বাঁশি বাজাতেন নিয়মিত। ১৯৮৮ সালে সংগীত শিল্পী আবদুল জব্বারের সাথেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাঁশি বাজাতেন তিনি। এরপর থেকে বাঁশিই হয়ে ওঠে তার জীবনের অন্যতম অনুসঙ্গ। তার বাঁশিতে দেশাত্মবোধক ও আধুনিক গানসহ সব ধরনের গানের সুর অনায়াসেই তুলতে পারেন তিনি।

বর্তমানে বাউল গানের আসর আগের মতো না জমলেও থামেনি তার বাঁশির সুর। গেল দু’বছর ধরে নিজেই বাঁশি তৈরি করে হাটে হাটে ঘুরে সেই সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে বিক্রি করে বেড়ান। তাতে যা আয় হয় তা দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি।

তিনি জানান, নিয়মিত বাঁশি না বাজালে মন অস্থির হয়ে ওঠে। তা ছাড়া মনে দুঃখ-কষ্ট জমলে বাঁশিতে ফুঁক দেই। তাতে বড়ই প্রশান্তি লাগে। তাছাড়া এখন আর আগের মতো নিয়মিত গানের অনুষ্ঠান না হওয়ায় জীবিকা নির্বাহ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। যেহেতু বাঁশিই আমার সাধনা, তাই অন্য পেশায় না জড়িয়ে নিজের তৈরি বাঁশি বিক্রি করে সংসার চালাই।

 797 total views,  5 views today

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© আইন আদালত প্রতিদিন। সর্বসত্ব সংরক্ষিত।
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web