বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন

প্রশ্নঃ- রোজা ভঙ্গের গ্রহণযোগ্য কারণ কী কী?

প্রশ্নঃ- রোজা ভঙ্গের গ্রহণযোগ্য কারণ কী কী?

Spread the love

জবাব- রোজা ভঙ্গের কারণসমূহ হচ্ছেঃ

১/ অসুস্থতা,

২/ সফর।

পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে।

আল্লাহ বলেন,

فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوۡ عَلَىٰ سَفَرٖ فَعِدَّةٞ مِّنۡ أَيَّامٍ أُخَرَۚ

“আর যে ব্যক্তি অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে (সে রোজা ভঙ্গ করে) অন্য দিনে তা কাযা আদায় করে নিবে।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৮৫]

৩/ গর্ভবতী নারীর নিজের বা শিশুর জীবনের আশংকা করলে রোজা ভঙ্গ করবে।

৪/ সন্তানকে দুগ্ধদানকারীনী নারী যদি রোজা রাখলে নিজের বা সন্তানের জীবনের আশংকা করে তবে রোজা ভঙ্গ করবে।

৫/ কোনো বিপদগ্রস্ত মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে রোজা ভঙ্গ করা: যেমন পানিতে ডুবন্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার, আগুন থেকে বাঁচাতে গিয়ে দরকার হলে রোজা ভঙ্গ করা।

৬/ আল্লাহর পথে জিহাদে থাকার সময় শরীরে শক্তি বজায় রাখার জন্য রোজা ভঙ্গ করা।

কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের সময় সাহাবীগণকে বলেছিলেন, إِنَّكُمْ مُصَبِّحُو عَدُوِّكُمْ وَالْفِطْرُ أَقْوَى لَكُمْ فَأَفْطِرُوا “আগামীকাল তোমরা শত্রুর মোকাবেলা করবে, রোজা ভঙ্গ করলে তোমরা অধিক শক্তিশালী থাকবে, তাই তোমরা রোজা ভঙ্গ কর।”[1]

বৈধ কোনো কারণে রোজা ভঙ্গ করলে দিনের বাকী অংশ রোজা অবস্থায় থাকা আবশ্যক নয়। কেননা সে তো গ্রহণযোগ্য ওযরের কারণেই রোজা ভঙ্গ করেছে।

এজন্য এ মাসআলায় বিশুদ্ধ কথা হচ্ছেঃ কোনো রুগী যদি অসুস্থতার কারণে দিনে রোজা ভঙ্গ করে আর দিন শেষ হওয়ার আগেই সুস্থ হয়ে যায়, তবে দিনের বাকী অংশ রোজা অবস্থায় থাকার কোনো আবশ্যকতা নেই।

কোনো মুসাফির যদি রোজা ভঙ্গ অবস্থায় দিন থাকতেই সফর থেকে ফিরে আসে তারও দিনের বাকী অংশ রোজা অবস্থায় থাকার আবশ্যকতা নেই।

অনুরূপ বিধান ঋতুবতী নারীর। কেননা এরা সবাই বৈধ কারণে রোজা ভঙ্গ করেছে। তাই ঐ দিবস তাদের জন্যই। তাতে তাদের প্রতি রোজার আবশ্যকতা নেই।

কেননা শরী‘আত তাদেরকে রোজা ভঙ্গের অনুমতি প্রদান করে আবার তা আবশ্যক করবে না।

এর বিপরীত মাসআলা হচ্ছে, রামাযান মাসের চাঁদ দেখা গেছে একথা যদি দিনের বেলায় প্রমাণিত হয়, তবে খবর পাওয়ার সাথে সাথে রোজার নিয়ত করে নিতে হবে এবং দিনের বাকী সময় রোজা অবস্থায় কাটাতে হবে। উভয় মাসআলায় পার্থক্য সুস্পষ্ট।

কেননা যখন কিনা দিনের বেলায় রামাযান মাস শুরু হওয়ার কথা প্রমাণিত হয়েছে, তখন তাদের ওপর সে দিনের রোজা পালন করা ওয়াজিব হয়ে গেছে। কিন্তু না জানার কারণে তাদের ওযর গ্রহণযোগ্য এবং তাদের রোজা বিশুদ্ধ।

এ কারণে তারা যদি জানতে পারত যে আজ রামাযান শুরু হয়েছে, তবে রোজা রাখা তাদের জন্য আবশ্যক হত।

[1] সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: সিয়াম, অনুচ্ছেদ: সফরে কাজের দায়িত্বে থাকলে সিয়াম ভঙ্গ করার প্রতিদান।

 1,732 total views,  1 views today

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© আইন আদালত প্রতিদিন। সর্বসত্ব সংরক্ষিত।
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web