পিরোজপুরের জেলা জজকে প্রত্যাহার কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

পিরোজপুরের জেলা জজকে প্রত্যাহার কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ আবুল মান্নানকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে আজ বুধবার (৪ মার্চ) পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটি হাইকোর্টের নজরে আনেন ব্যারিস্টার আব্দুল কাইয়ুমসহ কয়েকজন আইনজীবী। এরপর বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

পাশপাশি আগামী বুধবার রুলের পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।

যদিও আজ সকালে পিরোজপুরের জেলা জজ প্রত্যাহার সংক্রান্ত একাধিক পত্রিকার প্রতিবেদন নজরে আনা হলে হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ ঘটনাটি প্রধান বিচারপতির নজরে আনার জন্য পরামর্শ দেন। আদালত বলেছেন, প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের অভিভাবক। তিনি নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিএ) কমিটির প্রধান। প্রধান বিচারপতি পিরোজপুরের জেলা জজের অপসারণের বিষয়টি নিয়ে তিনি বলতে পারবেন। আমরা এই বেঞ্চে বসে এই বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না কারণ ওই প্রত্যহারের সঙ্গে ডিসিপ্লিনারি একশনের বিষয়টি জড়িত।

সকালে আদালতে অ্যাডভোকেট শিশির মুজিব সাবেক এমপি এম এ আউয়ালের জামিন সংক্রান্ত পত্রিকার প্রতিবেদন পড়ে শোনান। এসময় তিনি বলেন, একজন রাজনৈতিক নেতারা জামিন শুনানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেভাবে একজন বিচারককে অপসারণ করা হয়েছে তা বিচারবিভাগের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ। সংবিধানে মৌলিক কাঠামোতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় আইনজীবীরা এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি আরো বলেন, একজনকে জজকে তাৎক্ষনিক বদলি করে আরেকজন জজকে দায়িত্ব দিয়ে জামিন নেয়া হয়েছে তাতে আমাদের মধ্যে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়।

এদিকে, আইনজীবীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার ও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পিরোজপুরের জেলা জজ মো. আবদুল মান্নানকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে, এমনকি সাবেক সংসদ এ কে এম এ আউয়াল ও তার স্ত্রীকে জামিন দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘পিরোজপুর জেলা জজের কাছে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তার স্ত্রী দুর্নীতির মামলার জন্য জামিন চাইতে গিয়েছিলেন। জামিন চাওয়ার সময় তার আইনজীবী এমনকি অন্য সব আইনজীবীর সঙ্গে অত্যন্ত অশালীন এবং রূঢ় ব্যবহার করেন জেলা ও দায়রা জজ। আমরা গতকাল থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেই অদ্ভুত পরিস্থিতিতে এমন একটা অবস্থা দাঁড়ায়, যেখানে বারের সবাই আদালত বর্জন করার সিদ্ধান্ত নেয়। এমনকি রাস্তায় গণ্ডগোল চলছিল। রাস্তায় লোকজন বেরিয়ে গিয়েছিল। সেটাকে কন্ট্রোল করার জন্য তাকে সেখান থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে আদেশ দেওয়া হয় আইন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে।’

প্রসঙ্গত, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় গতকাল মঙ্গলবার পিরোজপুরের সাবেক সংসদ সদস্য একেএমএ আউয়াল ও তার স্ত্রী অধ্যাপিকা লায়লা পারভীনের জামিন নিয়ে দিনভর নাটক হয়েছে। দুপুরে তাদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর সাড়ে চার ঘণ্টা পর তা আবার মঞ্জুর করা হয়। আউয়ালের জামিন নামঞ্জুরকারী জেলা ও দায়রা জজ মো. আবদুল মান্নানকে বদলি করা হয়।

উল্লেখ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা, জালিয়াতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক এমপি এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল এবং তার স্ত্রী পিরোজপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লায়লা পারভীনের বিরুদ্ধে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর পৃথকভাবে তিনটি মামলা করে দুদক। মামলাগুলোর মধ্যে একটিতে সাবেক এমপি আউয়াল ও তার স্ত্রী লায়লা পারভীনকে আসামি করা হয়েছে। বাকি দুটিতে এককভাবে আউয়ালকে আসামি করা হয়। তিনটি মামলারই বাদী দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আলী আকবর।

 302 total views,  2 views today

আন্তর্জাতিক চট্টগ্রাম জজ আদালত জজ আদালত চট্টগ্রাম প্রচ্ছদ সারাদেশ সুপ্রীমকোর্ট