শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন

পালিয়ে কুয়াকাটায় আসা ৪ জন শিশু উদ্ধার; অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর।

পালিয়ে কুয়াকাটায় আসা ৪ জন শিশু উদ্ধার; অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর।

Spread the love

পালিয়ে কুয়াকাটায় আসা ৪ জন শিশু উদ্ধার; অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর।

ঢাকা থেকে পালিয়ে কুয়াকাটায় আসা ৪ কিশোর কিশোরী কে উদ্ধার করেছে মহিপুর থানা পুলিশ।

এরা হলেন, সুমাইয়া (১৩), তাসিব হোসেন (১৩) ইয়াসিন(১৬) ও মোঃ ইব্রাহিম(১৬) উভয় সাং জোড়াব্রীজ কালিগঞ্জ বাজার, থানা: কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

জানাগেছে, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত অনুমান ৮টা ১৫ মি: সময় কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এলাকায় নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছিল এসআই সাইদূরের নেতৃত্বে মহিপুর থানা পুলিশের একটি টহল দল। হঠাৎ তাদের চোখ পড়ে ৪ জন কিশোর-কিশোরীর উপর।
তারা মোবাইল ও ট্যাব বিক্রি করার চেষ্টা করছিল। এসআই সাইদুরের মনে সন্দেহ জাগে। সে তার সঙ্গীদের নিয়ে এগিয়ে যায়। পুলিশ দেখে প্রথমে ঘাবড়ে গেলেও পরে পুলিশের কথায় ও ব্যবহারে তারা আস্থা ফিরে পায়। তারা না খেয়ে আছে জানতে পেরে প্রথমে তাদের কিছু শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
এ সময় শিশু সুমাইয়া (১৩) জানায়, সে ও তার প্রতিবেশী অপর শিশু তাসিব (১৩) ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকায় পরিবারের সাথে বসবাস করে। গত ২২ জুন বেলা বেলা ১০টায় সুমাইয়া তার নানির লকার থেকে টাকা নিয়ে তাসিবের সাথে বাসা থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে রাতে সদরঘাট আসে। সেখান থেকে রাত ১১টায় শরীয়তপুরগামী লঞ্চে ওঠে। লঞ্চে তাদের সাথে ইয়াসিন (১৬) ও ইব্রাহিম (১৬) সাথে পরিচয় হয় ও সখ্যতা গড়ে ওঠে। ২৩ জুন ভোরে তারা নড়িয়া লঞ্চঘাটে নামে এবং সারাদিন নড়িয়া এলাকায় ঘুরে ফিরে কাঁটায়। ওই দিন বিকালে ৪ জন আবার নড়িয়া থেকে ঢাকাগামী লঞ্চে ওঠে এবং রাত ৮ টায় সদরঘাট পৌছায়। তখন তারা বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং বরিশালের লঞ্চে ওঠে ২৪ জুন সকালে বরিশাল পৌছে সেখান থেকে বাসে করে কুয়াকাটায় আসে। রাতে তারা একটি হোটেলে থাকে। সকালে সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে বের হয়ে টাকা শেষ হয়ে গেলে সারা দিন না খেয়ে কাটায়। উপায়ন্তর না পেয়ে তারা সঙ্গে থাকা মোবাইল ও ট্যাব বিক্রি করে ক্ষুধা নিবারণ ও যাতায়াতের টাকা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেন। এ পর্যায়ে তারা পুলিশের সংস্পর্শে আসে।
এরপর পুলিশের টহল দলটি তাদের মহিপুর থানায় নিয়ে প্রাথমিক পরিষেবা দিয়ে খাবার সহ আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা নেয় এবং শিশুবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়। অতঃপর ফোন করে অভিভাবকদের সাথে কথা বলে মহিপুর থানায় আসতে বলা হয়। ইতোমধ্যে মহিপুর থানা পুলিশ ডিএমপি’র কামরাঙ্গীরচর থানা এবং ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের মাধ্যমে প্রকৃত অভিভাবক সম্পর্কে নিশ্চিত করা হয়।

অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের ফিরে পেয়ে আনন্দে অশ্রুসজল চোখে পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

 1,227 total views,  2 views today

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© আইন আদালত প্রতিদিন। সর্বসত্ব সংরক্ষিত।
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web