শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন

পরীর পাহাড় নয় “কোর্ট হিল”

Spread the love

“কোর্ট হিল” কে পরীর পাহাড় লেখা যাবে না।

চট্টগ্রামের আদালত ভবন এলাকার নাম ‘কোর্ট হিল’ না ‘পরীর পাহাড়’ হবে তা নির্ধারণ করতে এবার আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতি ও জেলা প্রশাসক।

আদালত ভবনকে ‘পরীর পাহাড়’ হিসেবে উল্লেখ করে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান সম্প্রতি চিঠি চালাচালি করায় তা বন্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন আইনজীবী সমিতি। রোববার চট্টগ্রাম সদর প্রথম সিনিয়র সহকারী জজ ইসরাত জাহান নাসরিনের আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন।
শুনানি শেষে আদালত আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কামরুল হাসান, জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাজমুল হাসান, সহকারী কমিশনার ভুমি বাকলিয়া আতিকুর রহমানসহ চার জনকে আগামী তিন দিনের মধ্যে ‘পরীর পাহাড়’ লেখার উপর গত ৭ নভেম্বর ২০২১ ইংরেজি তারিখে তিন দিনের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা কেন দেওয়া হবে না তার ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ প্রদান করলে গতকাল ১০ নভেম্বর ২০২১ ইংরেজি তারিখ রোজ বুধবার বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক সহ অপর দুইজন এর পক্ষ থেকে সহকারি সরকারি আইনজীবী(এজিপি)র মাধ্যমে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য সময়ের আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মামলার বাদী অ্যাডভোকেট এএইচএম জিয়াউদ্দিন সমকালকে বলেন, ‘ব্রিটিশ আমল থেকে চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকাকে কোর্ট হিল হিসেবে চট্টগ্রামবাসীর কাছে পরিচিত। এখানে সরকারি ডাকঘর, সোনালী ব্যাংকও কোর্ট হিল শাখা হিসেবে সরকার স্বীকৃত। আদালত ভবনের নামফলকে পরীর পাহাড় নাম নেই। সরকারি সব নথিতে কোর্ট হিল লেখা থাকলেও বর্তমান জেলা প্রশাসক যোগদানের পর থেকেই কোর্ট হিলের পরিবর্তে পরীর পাহাড় নাম প্রতিষ্ঠা করতে জেলা প্রশাসক উঠেপড়ে লেখেছেন। তাই আমরা কোর্ট হিলকে পরীর পাহাড় লেখার উপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছি।’
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কামরুল হাসান বলেন, ‘বিচারাধীন বিষয় নিয়ে আমরা কোনো বক্তব্য দিবো না। তবে আদালত থেকে নোটিশ পেলে তার আলোকে আমাদের বক্তব্য আমরা আদালতে দাখিল করব।’

প্রায় ১২ একর পাহাড়বেষ্টিত ২৫০ বছরের পুরনো আদালত ভবন এলাকায় জেলা ও মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবন, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে।

এখানে ১৩৫টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করেছে ফায়ার সার্ভিস।উক্ত অবৈধ স্থাপনাগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই স্থাপনা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারী কর্তৃক পরিচালিত হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। উক্ত অবৈধ স্থাপনা সমূহ ফায়ার সার্ভিসের তালিকায় ঝুঁকিপূর্ণ থাকলে ও আইনজীবী সমিতির পাঁচটি সকালে বন্দোবস্তকৃত জায়গার উপর স্থাপিত হয় বলে জানা যায়। এ এই পাঁচটি আইনজীবী ভবন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অনুমোদন নিয়ে তৈরি করা হয়। এই আইনজীবী ভবনগুলো তৈরি করতে অর্থায়নও করেছে সরকার। ভবনগুলো উদ্বোধনও করেছেন সরকারের মন্ত্রীরা। তাই এ পাহাড়ে থাকা পাঁচ আইনজীবী ভবন এবং আইনজীবীর সংখ্যা বৃদ্ধি হাওয়ায় চেম্বার সংকটের কারণে দুটি নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ না হলে জেলা প্রশাসক ও আইনজীবী সমিতি মুখোমুখি অবস্থান করে।

© আইন আদালত প্রতিদিন

 19,734 total views,  2 views today

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© আইন আদালত প্রতিদিন। সর্বসত্ব সংরক্ষিত।
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web