বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন

সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করতেই সিআরবিতে স্থাপনা নির্মাণের ষড়যন্ত্র

সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করতেই সিআরবিতে স্থাপনা নির্মাণের ষড়যন্ত্র

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রকৌশলী নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভায় বক্তারা সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করতেই
সিআরবিতে স্থাপনা নির্মাণের ষড়যন্ত্র

মোঃ আলী আকবর

সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল চট্টগ্রামের সিআরবিতে স্থাপনা নির্মাণের নামে লুটপাট ও বাণিজ্য ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। হেরিটেজ ঘোষিত চট্টগ্রামের সিআরবিতে হাসপাতালের নামে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তারা। হেরিটেজ হিসেবে গেজেটভুক্ত হওয়া সিআরবিতে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পরিবর্তন করে এই ধরনের স্থাপনা নির্মাণ সাংবিধানিক আইন লংঘন করার শামিল, যা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। ৭ই আগস্ট শনিবার দুপুরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ-আইআইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সিআরবি রক্ষায় আন্দোলনকারী সংগঠন নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়কালে বক্তারা এসব কথা বলেন। সভায় চট্টগ্রামের সকল প্রকৌশলী সিআরবি রক্ষার আন্দোলনে একাত্মতা জানিয়ে সর্বাত্মক সহযোগীতার অঙ্গীকার জানান।

 


আইআইবি চট্টগ্রাম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেন, প্রাচ্যের রানি চট্টগ্রাম একসময় নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর ছিল। কিন্তু অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে আমরা সেই ঐতিহ্য অনেকটা হারিয়েছি। উন্মুক্ত জায়গা, খেলার মাঠ নেই বললেই চলে। একটি মাত্র উন্মুক্ত স্থান সিআরবি, যেখানে মানুষ প্রাণভরে শ্বাস নিতে পারে, সেটিও ধ্বংস করার পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে। সিআরবি এলাকাকে কালচারাল হেরিটেজ হিসেবে ঘোষিত। এটি মহামান্য রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত গেজটভুক্ত। সিআরবি’র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পরিবর্তন করে সাংবিধানিক আইন লংঘন করা যাবে না। ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানে সিআরবি সংরক্ষণের সুপারিশ রয়েছে। সিআরবি’র প্রকৃতি নষ্ট করার অধিকার কারো নেই।আগামী প্রজন্মেও জন্য যে কোনভাবে সিআরবি রক্ষা করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে আইআইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সভাপতি প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন সিআরবি রক্ষার আন্দোলনে সর্বাত্মক সহযোগীতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, আমাদের বাঁচতে হলে প্রকৃতির নির্মল পরিবেশ দরকার। চট্টগ্রামের সেই পরিবেশ এখন অনেকটা নষ্ট হয়ে গেছে। একমাত্র সিআরবি আছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঘুরেও সিআরবি’র মতো নান্দনিক সৌন্দর্যমন্ডিত প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখা যাবে না। এখন তা ধ্বংস করা হচ্ছে। কোন প্রকারে এটিকে ধ্বংস করতে দেয়া যাবে না।
নাগরিক সমাজ চট্টগ্রামের কো চেয়ারম্যান ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলাম বলেন, সরকারি জায়গা জনগণের সম্পত্তি। জনগণের সম্পত্তিতে সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করবে না- এমন কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না। সিআরবি রক্ষা করার বিষয়টি আইনি ভাবে নির্ধারিত। কিন্তু সিআরবি রক্ষা করার জন্য আমাদের আন্দোলন করতে হচ্ছে। সিআরবিতে স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের আপামর মানুষ, বিভিন্ন সেবাসংস্থা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সুস্থ ধারার প্রগতিশীল ব্যক্তি সকলেই। যারা সিআরবিতে স্থাপনা নির্মাণ করতে চাইছে, তারা কি এতটাই শক্তিশালী ? তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল সিআরবিতে স্থাপনা নির্মাণ করতে চাইছে। সিআরবিতে হাসপাতালের নামে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার ষড়যন্ত্র করছে। সিআরবি’তে যে হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাবনা হয়েছে, সেটি শুধুমাত্র ধনীদের স্বার্থ রক্ষাকারী। এটি জনস্বার্থ পরিপন্থি প্রকল্প।
নাগরিক সমাজ চট্টগ্রামের সদস্য সচিব ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বাংলাদেশ গেজেটভুক্ত প্রজ্ঞাপনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-চউক’র প্রণিত ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান’এ সিআরবি’কে কালচারাল হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সিআরবি প্রোটেকটেড এরিয়া হিসেবে সংরক্ষনের নির্দেশ দেয়া হয়। সেই হিসেবে সিআরবি’তে কর্মাশিয়াল ব্যবহারের জন্য অনুমতি দেয়া যাবে না। ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান’এ এটি সংরক্ষণের জন্য রেলওয়ে, চউক, সিটি কর্পোরেশনসহ সেবাদানকারী সংস্থাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সিআরবিতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনা বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ সংবিধান পরিপন্থি কাজের শামিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অন্ধকারে রেখে এই প্রকল্প নেয়া হয়েছে। আশাকরি প্রধানমন্ত্রী প্রকৃত বিষয়টি জানলে জনস্বার্থ বিরোধী এই প্রকল্প বাতিলে উদ্যেগী হবেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্য ব্যক্তিত্ব আহমেদ ইকবাল হায়দার, আইআইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী মো. হারুন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন-চসিক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন নাগরিক কমিটির কো-চেয়ারম্যান রাজনীতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক মফিজুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউনুচ, নুরুল আলম মন্টু, বিএফইউজে’র যুগ্ম মহাসচিব মহসীন কাজী, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এএইচএম জিয়া উদ্দিন, চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বাবু, কার্যকরী সদস্য চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, জৈষ্ঠ সাংবাদিক শুকলাল দাশ, সংগঠক শরীফ চৌহান, যুগ্ম সদস্যসচিব রাশেদ হাসান, স্বপন মজুমদার, আবৃত্তিকার প্রনব চৌধুরী, সাংবাদিক প্রীতম দাশ, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক তথ ও প্রযুক্তি সম্পাদক এবং সংগঠক অ্যাডভোকেট রাশেদুল আলম রাশেদ, বাংলাদেশ বেতারের সাইফুদ্দিন খালেদ চৌধুরী, প্রকৌশলী সৈকত কান্তি দে, জাহেদ আবসার চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা শিবু প্রসাদ চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা নুরুল আজিম রনি, নারী নেত্রী হাসিনা আক্তার টুনু, প্রকৌশলী তৌহিদুল ইসলাম, গিয়াস উদ্দিন, আমিনুল ইসলাম মুন্না, রাহুল দত্ত, মাহমুদুল করিম, নোমান প্রমুখ।

 5,795 total views,  1 views today

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© আইন আদালত প্রতিদিন। সর্বসত্ব সংরক্ষিত।
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web