www.ainadalatprotidin.com
  • মঙ্গল. জুলা ২৭, ২০২১

AIN ADALAT PROTIDIN

সত্যের সন্ধানে আইন-আদালত প্রতিদিন

দেশজুড়ে থামছে না করোনার ভয়াবহতা

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নাহিদ দেওয়ান :
কঠোর লকডাউনেও দেশজুড়ে থামছে না করোনার ভয়াবহতা । গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ৭৬৮ জন, যা এক দিনে সর্বোচ্চ। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৬ হাজার ৬৩৯ জন। আর মোট শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০ লাখ ৩৪ হাজার ৯৫৭ জনে। সোমবার (১২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে রোববার (১১ জুলাই) ২৩০ জনের মৃত্যু হয়। তার আগে শনিবার ১৮৫ জনের, শুক্রবার ২১২ ও বৃহস্পতিবার ১৯৯ জনের মৃত্যু হয়। গত ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়ায়। এদিন মৃত্যু হয় ২০১ জনের।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৪৬ হাজার ৪৫ জনের। পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৪ হাজার ৬৭টি। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ২৪ শতাংশ। দেশে এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৭০ লাখ ১৫ হাজার ২৩৪টি। মোট পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৭ হাজার ২০ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ৮১ জন ৫২১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ঢাকা বিভাগেরই ৬৪ জন। এছাড়া খুলনায় ৫৫, চট্টগ্রামে ৩৭, রাজশাহীতে ২৩, বরিশালে ৪, সিলেটে ৬, রংপুরে ১৮ এবং ময়মনসিংহে ১৩ জন মারা গেছেন। মারা যাওয়াদের মধ্যে ১৪২ জন পুরুষ এবং ৭৮ জন নারী। এদের মধ্যে ১৩ জন বাসায় মারা গেছেন। বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মোট মারা যাওয়া ১৬ হাজার ৬৩৯ জনের মধ্যে পুরুষ ১১ হাজার ৬৫০ জন এবং নারী ৪ হাজার ৯৮৯ জন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ১২১ জনের বয়স ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের ৪৬, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ২৬, ৩১ থেকে ৪০ বছরের ১৭ এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের ৯ জন রয়েছেন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।
মমেকের করোনা ইউনিটে আরও ১৭ জনের মৃত্যু :
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ছয়জন করোনায় এবং ১১ জন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সোমবার (১২ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. মহিউদ্দিন খান মুন।

তিনি বলেন, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন ময়মনসিংহ সদরের মুস্তাফিজুর রহমান (৪২), ত্রিশালের আবুল খালেক (৬৭), শেরপুর সদরের লুৎফুন্নেসা বেগম (৬০), আবুল মোতালেব (৬৪), নালিতাবাড়ির রোকসানা বেগম (২৩) এবং জামালপুর সদরের চাঁন মিয়া (৬৫)।

এ ছাড়া এ সময়ের মধ্যে উপসর্গ নিয়ে মারা যান- ময়মনসিংহ সদরে জলিল মিয়া (৪৫), ইদ্রিস আলী (৬১), শামসুন্নাহার (৭০), হোসেন আলী (৩৮), নুর বানু (৬০), সিরাজুল ইসলাম (৯০), মুক্তাগাছার আল জিন্নাহ (৬৫), ভালুকার বিল্লাল হোসেন (৫৬), জামালপুর সদরের আব্দুল মান্নান ( ৬৫), আব্দুল কুদ্দুস (৮৫) ও নেত্রকোনার আব্দুর রহমান (৫০)।

ডা. মহিউদ্দিন খান মুন আরও বলেন, করোনা ইউনিটে বর্তমানে ৪২১ জন রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে আইসিইউতে রয়েছেন ২১ জন রোগী। নতুন ভর্তি হয়েছেন ৬৬ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯১ জন।

এদিকে ময়মনসিংহ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৮১৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ২৬৩ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। শনাক্তের হার ৩২ দশমিক ২৩ শতাংশ বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

রংপুরে আরও ১৮ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৬৭১ :
রংপুর বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি বিভাগে একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু। একই সময়ে করোনা সংক্রমিত আরও ৬৭১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গেল ১১ দিনে বিভাগে করোনায় প্রাণ হারাল ১৫২ জন।

সোমবার (১২ জুলাই) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আবু মো. জাকিরুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দিনাজপুর জেলার ছয়জন, রংপুরের পাঁচজন, ঠাকুরগাঁওয়ের তিনজন, পঞ্চগড়ের তিনজন ও কুড়িগ্রাম জেলার একজন রয়েছেন।

একই সময়ে বিভাগে ১ হাজার ৯৫০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৬৭১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুরের ২২৯, রংপুরের ১৩৪, ঠাকুরগাঁওয়ের ১২০, নীলফামারীর ৪৫, লালমনিরহাটের ৪৩, কুড়িগ্রামের ৩৫, পঞ্চগড়ের ৩৩ ও গাইবান্ধা জেলার ৩২ জন রয়েছে। বিভাগে শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

করোনাভাইরাস শনাক্তের শুরু থেকে রোববার (১০ জুলাই) পর্যন্ত রংপুর বিভাগে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৫১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। বিভাগের আট জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে দিনাজপুর, রংপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলায়। এ ছাড়া ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা জেলাগুলোত বেড়েছে শনাক্ত ও মৃত্যু।

নতুন করে মারা যাওয়া ১৮ জনসহ বিভাগে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭১ জনে। এর মধ্যে দিনাজপুর জেলার ২২৯ জন, রংপুরের ১৩৪, ঠাকুরগাঁওয়ের ১২০, নীলফামারীর ৪৫, লালমনিরহাটের ৪৩, কুড়িগ্রামের ৩৫, পঞ্চগড়ের ৩৩ ও গাইবান্ধার ৩২ জন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪১৯ জন।

এ ছাড়া নতুন শনাক্ত ৬৭১ জনসহ বিভাগে ৩৩ হাজার ৩২৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুুর জেলায় ১০ হাজার ৩৫৬ জন, রংপুরে ৭ হাজার ৩১৯ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ হাজার ৬৮০ জন, গাইবান্ধায় ২ হাজার ৭২৫ জন, নীলফামারীতে ২ হাজার ৪৩২ জন, কুড়িগ্রামে ২ হাজার ৩৪০ জন, লালমনিরহাটে ১ হাজার ৮৫৫ জন এবং পঞ্চগড়ে ১ হাজার ৬২২ জন রয়েছেন।

করোনার সংক্রমণ রোধে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আবু মো. জাকিরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিভাগের নির্দেশনা মেনে চলার বিকল্প নেই।

 361 total views,  2 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *