www.ainadalatprotidin.com
  • শুক্র. জুন ২৫, ২০২১

AIN ADALAT PROTIDIN

সত্যের সন্ধানে আইন-আদালত প্রতিদিন

ঘরমুখী মানুষের ভরসা বিকল্প যানবাহন

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

করোনা সতর্কতায় দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকলেও ঈদে বিকল্প যানবাহনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটছেন ঘরমুখী মানুষ। এতে যাত্রী চাপ বেড়েছে বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে। বুধবার সকাল থেকেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে বিভিন্ন রুটে ছেড়ে যাচ্ছে দূরপাল্লার বাস।

দীর্ঘদিন লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বাধ্য হয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন বলে দাবি পরিবহণের মালিকদের। ভোর থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বেড়েছে মানুষের ভিড়। গাড়ির চাপ বাড়ায় টঙ্গী থেকে চান্দনা-চৌরাস্তা পর্যন্ত থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়।

মহাসড়কগুলোতে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছে হাজারো মানুষ। একই চিত্র ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কেও। বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে টাঙ্গাইলের নগরজালফৈ বাইপাস পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার যানজট। যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে কয়েকগুণ বাড়তি ভাড়া। ব্যক্তিগত গাড়ি আর পন্যবাহী গাড়ি বেড়ে যাওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
শিমুলিয়ার পথে জনস্রোত : আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা জানাচ্ছেন, ঈদযাত্রা ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করার পরও থামেনি শিমুলিয়া ঘাটমুখী জনস্রোত। গতকাল সকাল সাড়ে ৭টায় ইকুরিয়া এলাকায় দেখা গেছে, ব্যাগ নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে চার তরুণের একটি দল। তারা জানালেন, সোমবার সারা রাত ট্রাকে চেপে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছেন, যাবেন মাদারীপুর। তাদের মধ্যে একজন বলেন, ট্রাকে ১ হাজার ৯০০ টাকা ভাড়া দিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় নেমেছেন। এরপর কোনো যানবাহন না পেয়ে ব্যাগ নিয়ে হেঁটেই পোস্তগোলা সেতু পার হয়েছেন।

সকাল পৌনে ৮টার দিকে আবদুল্লাহপুর টোলপ্লাজায় দেখা যায়, সব গাড়ি ঘুরিয়ে দিচ্ছেন বিজিবি সদস্যরা। টোল প্লাজার সামনে বাধা পাওয়া ব্যক্তিগত গাড়ির জটলা। এ ছাড়া ওই সময়ে বেশ কিছু গাড়ি টোলপ্লাজা পেরিয়ে ঘাটে গিয়ে পৌঁছাতে পেরেছে, তবে লোকজন হেঁটে যাচ্ছে বেশি।

কভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে ঈদকে সামনে রেখে শিমুলিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটে ঘরমুখো মানুষের ঢল ঠেকাতে শনিবার রাতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়। বিআইডব্লিউটিসি ওই দিন ফেরি চলাচল বন্ধ রেখেও শত শত মানুষের ঘাটে আসা ঠেকাতে পারছিল না। নাছোড়বান্দা মানুষ ফেরিতে উঠলে একপর্যায়ে ফেরি চলাচল শুরু করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

গতকাল সকাল সোয়া ৮টার দিকে পাঁচটি গাড়ির একটি বহর টোল প্লাজা পার হয়। সেখানে একটি গাড়িতে পতাকা দেখা যায়। ওই গাড়িবহরের পেছনে পেছনে হেঁটে টোলপ্লাজা পেরোতেই শোনা গেল চিরচেনা হাঁকডাক ‘মাওয়া ঘাট, মাওয়া ঘাট, দুই শ দুই শ’। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের কাজে যে ‘ডাম্পট্রাকগুলো’ ব্যবহৃত হতো সেগুলো এখন যাত্রী বহন করছে। ট্রাকগুলোর চালক ও সহকারীরা ডাকাডাকি করছেন; কেউ চাইছেন ১০০ কারও দাবি ২০০।

মোটরসাইকেলে যাত্রা : মোটরসাইকেলে করে প্রচুর মানুষকে ঘাটের দিকে যেতে দেখা গেল। এক একটি মোটরসাইকেলে যাত্রী হিসেবে নারীদের সঙ্গে একাধিক শিশুও রয়েছে। মোটরসাইকেলগুলোতে ব্যাগ বস্তার সঙ্গে ঝুলছে থালা-বাসন, বঁটি, শিশুদের রঙিন খেলনা, পানির বোতল, টিফিন ক্যারিয়ারও। দেখে বোঝা যাচ্ছে, এক একটি পরিবার চলছে ঈদ করতে। সাড়ে ৮টার দিকে আবদুল্লাহপুর ফেরিঘাট থেকে কিলোমিটারখানেক দূরে সিরাজদিখান গোডাউন বাজার এলাকায় আসতেই সাইড রোডে দেখা গেল বিশাল জটলা। টোলপ্লাজা পেরিয়ে মানুষের স্রোত এই বাজার থেকে ট্রাক এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা উঠছে। এর মাঝেই পুলিশ এসে কয়েকটি গাড়ির চাবি নিয়ে গেল। রাস্তার ওপর গাড়িগুলো আটকে পড়ায় সামনে-পিছে বিশাল জটলা তৈরি হয়ে গেছে। চলছে হইচই, চিৎকার, ঠেলাঠেলি।

বৃষ্টিতে ভিজে, ফেরির কোনায় দাঁড়িয়ে পদ্মা পাড়ি : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার লঞ্চ-স্পিডবোট বন্ধ করে রাখায় পদ্মার শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথ পার হওয়ার একমাত্র ভরসা ফেরি। ফেরি দিনে বন্ধ রাখার ঘোষণা থাকলেও জনস্রোতের চাপে চালাতে বাধ্য হচ্ছে বলে বিআইডব্লিউটিসির ভাষ্য। বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের এজিএম মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদ এগিয়ে আসায় চাপ আরও বেড়েছে। দিনে জরুরি পরিষেবার পাশাপাশি পরিস্থিতির কারণে লোকজনও পার করা হচ্ছে। ১৬টি ফেরির মধ্যে ১৫টি চলাচল করছে এখন। বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্টের বাধাও কাজে আসছে না। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই লোকজন ছুটছে। রাতেও ছিল একই অবস্থা। রাত ৩টা পর্যন্ত ফেরিতে লোকজনের কারণে গাড়ি উঠতে পারেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। মুন্সীগঞ্জের ডিসি মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, মানুষের ঢল থামানো যাচ্ছে না। তবে সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে সাধ্যমতো চেষ্টা চলছে। শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে ৮৭টি লঞ্চ ও প্রায় সাড়ে চার শ’ স্পিডবোট ও দুই শতাধিক ট্রলার চলাচল করত। সেগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু ১৫টি ফেরি চলছে।

পাটুরিয়া ঘাটে যাত্রীর চাপ : ঈদে ঘরমুখো যাত্রীর চাপ বেড়েছে পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের টেপড়া এলাকায় বিজিবির চেকপোস্ট বসানোয় যাত্রী ও ছোট যানবাহন, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাসসহ অনান্য পরিবহন ঘাটে ঢুকতে পারছে না। শুধু লাশবাহী গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পরিবহনগুলো চেকপোস্টের আওতামুক্ত থাকছে। সকালে ৩-৪টি ফেরি দিয়ে এসব গাড়ি ও যাত্রী পারাপার করা হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর চাপ বাড়ে। অ্যাম্বুলেন্স ফেরিতে ওঠার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লোকজন ফেরিতে ওঠে। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে যাত্রীরা ফেরি পার হচ্ছে। গতকাল দিনভর ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ অন্যান্য সড়কেও লোকজনকে দেখা যায়, বিভিন্ন বাহনে ঘাটের দিকে যাচ্ছে। হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় যাত্রীরা আরও দুর্ভোগে পড়েন। বিআইডব্লিউটিসির ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম জিল্লুর রহমান জানান, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর চাপ বেড়ে চলেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন কায়দায় কিছু প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস ঘাটে ঢুকে পড়ায় সেগুলো পারাপার করা হচ্ছে। তাছাড়া লাশবাহী গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পরিবহনগুলোর সঙ্গে যাত্রী পারাপারে বর্তমানে ৭ থেকে ৮টি ফেরি সচল রাখা হয়েছে।

ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে ছুটছে মানুষ : করোনা ভীতি উপেক্ষা করে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছে মানুষ। গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে প্রায় ৪২ হাজার যানবাহন পারাপার হয়েছে। যাত্রীরা বলছেন, কর্মস্থল ছুটি হওয়ায় থাকার জায়গা নেই। এ ছাড়াও পরিবার-পরিজন আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। এ জন্য পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে হলেও বাড়ি যেতে হচ্ছে। মহাসড়কের দায়িত্বরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আখতার জানান, যানজটরোধ করতে পুলিশ দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। করোনা প্রতিরোধ করতে যাত্রী বা চালক যাতে হোটেল-রেস্তোরাঁয় না থামে সেজন্য পার্কিং করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ ছাড়াও পণ্যবাহী ট্রাকে লুকিয়ে যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে। অনেকে পণ্যবাহী ট্রাকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছে। মানবিক কারণে নামিয়েও দেওয়া যাচ্ছে না।

জনজট গাজীপুরের রাস্তায় : গাজীপুরের রাস্তায় অন্যবারের মতো এবার আর যানজট নেই। আছে জনজট। দূরপাল্লার গাড়ি না থাকলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা তারা অপেক্ষা করেন ‘কোনো একটা উপায় হবেই’ সেই আশায়। গতকাল সকালে চন্দ্রা এলাকায় দেখা গেছে, এক পরিবারের কয়েকজন সদস্য টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের দিকে হাঁটছেন। সামনের দিকে এগোচ্ছেন গাড়ি পাওয়ার আশায়। গাজীপুরের বাসন থানার লাবিব ফ্যাশন নামে একটি কারখানার শ্রমিক মামুন মিয়া পরিবার নিয়ে ভোগড়া এলাকায় থাকেন। সাহরি খেয়ে বাসা থেকে বের হয়েছেন। অটোরিকশায় ১০০ টাকা ভাড়া দিয়ে এসেছেন চন্দ্রায়। তিনি সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, তার গন্তব্য রাজশাহীর মতিহার। চন্দ্রা এসে সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে আছি। কোনো গাড়ি পাচ্ছি না। কীভাবে যাবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটা উপায় হয়ে যাবে। বাস যদি না পাই তাহলে ট্রাকে উঠে চলে যাব। যত কষ্টই হোক, বাড়িতে গিয়ে মা-বাবার সঙ্গে ঈদ করব। এর চেয়ে অন্য কোনো আনন্দ নেই। হায়াত-মউত আল্লাহর হাতে। করোনাভাইরাসে ভয় করি না। যা হয় হবে। গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম বলেন, দূরপাল্লার গাড়ি না থাকায় চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় মানুষের জটলা ছিল। সকাল থেকে জটলা শুরু হয়ে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। মহাসড়কে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। আমরা যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সতর্ক করছি।

হাটিকুমরুল থেকে চলছে আন্তজেলা বাস : এভাবেই ঈদের ঘরমুখী মানুষ ঢাকা থেকে ভেঙে ভেঙে মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, পিকআপ ভ্যান, মুরগির গাড়ি, বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ট্রাকে করে গ্রামের বাড়ির দিকে যাচ্ছেন। গতকাল বেলা ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকা থেকে আন্তজেলা বাস চলাচল করতে দেখা গেছে। সিরাজগঞ্জ থেকে পাবনা, নাটোর, রাজশাহীর আন্তজেলা দূরপাল্লার বাস কিছু কিছু চলতে দেখা গেছে। দুপুরে হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকার নাটোর মহাসড়ক ও শাহজাদপুর-পাবনা মহাসড়কে ডেকে ডেকে এসব বাসের যাত্রী সংগ্রহ করছেন হেলপাররা। এ সময় বেশ কিছু যাত্রীকে রাজশাহীগামী বাসগুলোতে উঠতে দেখা যায়। এসব বাসে হাটিকুমরুল থেকে নাটোরের ভাড়া দিতে হচ্ছে ২৫০ টাকা। রাজশাহী যেতে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা চাইলেও পরে কিছু কম নেওয়া হচ্ছে বলে জানালেন যাত্রীরা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মানুষের ঢল : ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে করোনাভাইরাসকে উপেক্ষা করে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে ঈদে ঘরমুখো মানুষ বিড়ম্বনার মধ্যে বাড়ি ফিরছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় ১৮ জেলার মানুষ যাত্রীবাহী বাসের পরিবর্তে বিকল্প যান মোটরসাইকেল, পিকআপভ্যান, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার ও দূরপাল্লার লোকাল বাসসহ বিভিন্ন ছোট ছোট যানবাহনে করে নির্ধারিত গন্তব্যে যাচ্ছেন। তবে এসব যানবাহনে তিনগুণ থেকে পাঁচগুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। গতকাল দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড ও শিমরাইল মোড়ে সরেজমিন গিয়ে এসব যানবাহনে করে ঈদে ঘরমুখো মানুষকে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে।

 148 total views,  2 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *