ঢাকা, ২রা জুলাই ২০২০ ইং | ১৮ই আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১০ই জিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

কলাপাড়ায় ভূমিহীন রাশিদাকে উচ্ছেদের পায়তারা।

মোহাম্মদ জুলহাস মোল্লা

, কলাপাড়া প্রতিনিধি


প্রকাশিত: ৮:১৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২০

কলাপাড়ায় ভূমিহীন রাশিদাকে উচ্ছেদের পায়তারা।

কলাপাড়ায় স্বামী বুদ্ধি প্রতিবন্দ্বি আজিজ রাড়ী (৫৫) কে নিয়ে সুদীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ওয়াপদার ঢালে বসবাস করে আসছে রাশিদা (৫০)। মাথা গোঁজার সম্ভল তাদের ওটুকোই। বিকল্প কোন জমাজমি বা বাড়ি ঘর কিছুই নেই। তবুও বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদ করার জন্য প্রভাবশালীরা উঠে পরে লেগেছে। প্রতিনিয়ত দেয়া হচ্ছে হুমকী। বসানো হচ্ছে শালিশ বৈঠক। তাতেও যখন কাজ হচ্ছে না তখন মহিপুর থানার পুলিশ দিয়ে হয়রানী করে ভিটে ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী রাশিদা বেগম স্বাক্ষরিত কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কলাপাড়া উপজেলার ৬ নং মহিপুর ইউনিয়নের পুরান মহিপুর গ্রামের একজন হত দরিদ্র নারী রাশিদা বেগম। পুরান মহিপুর সরকারী ওয়াপদার ঢালে ছোট্র একটি ঝুপড়িঘর তৈরী করে সুদীর্ঘ ৩০(ত্রিশ) বছর ধরে প্রতিবন্দী স্বামী, পুত্র সন্তানাদী নিয়া বসবাস করে আসছে। এই সামান্য ঝুপড়ি ঘরটি ছাড়া তাদের অন্য কোন ঘরবাড়ি বা জায়গা জমি নেই। একই গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর পুত্র শাহজাহান মুন্সী ও তাঁর অপর দুই ভাই ছিদ্দিক মুন্সী ও মাছুম মুন্সী অত্যন্ত খামখেয়ালী স্বভাবের লোক। তারা শালিশ বিচার ও আইন কানুন মানেনা এবং দাঙ্গা হাঙ্গামা সৃষ্টিকারী ভূমি দস্যু প্রকৃতির লোক। অন্যের জমাজমি জোড় করে দখল করা তাদের নেশা এবং পেশা। সম্প্রতি তারা ভুক্তভোগী রাশিদার বসত ঘর সংলগ্ন ওয়াপদার বাহিরে প্রায় ৫/৬ একর সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে মাছের ঘের ও ধান্য জমি চাষাবাদ করিয়া ভোগ দখল করিয়া আসিতেছে। তারা রাশিদার বসত ভিটা খেকে তাদেরকে স্বপরিবারে উচ্ছেদ করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে এবং প্রায়ই দলবল নিয়া তাদের ঘরের সামনে আসিয়া রাশিদা ও তাঁরস্বামীর নাম ধরিয়া বিভিন্ন অশ্লিল ভাষায় গালিগালাছ করে এবং আমার ঘর দরজা ভেঙ্গে অন্যত্র যাওয়ার জন্য জোড় হুমকী প্রদান করে আসছে। তারা থানায় আমাদের বিরুদ্ধে নালিশ করিয়া আমাকে পুলিশ দ্বারা হয়রানী করাসহ বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। সর্বশেষ বিগত ২৪-০৬-২০২০ ইং তারিখ বুধবার সকাল আনুমানিক ১০ টার সময় উল্লেখিত শাহজাহান ও মাছুম মুন্সী ভুক্তভোগী রাশিদা বেগমের ঘরের সামনে এসে এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের ঘর দরজা ভেঙ্গে অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য বলে। অন্যথায় তাদের হাত পা ভেঙ্গে পঙ্গু করে দিবে এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে সর্বশান্ত করবে বলে জোড় হুমকী দেয় বলে অভিযোগে প্রকাশ। এ ব্যপারে রাশিদা বেগমকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায় প্রভাবশালী ওই ব্যক্তিদের ভয়ে আমরা সদাসর্বদা ভীিত সন্ত্রস্থ আছি। তারা যে কোন সময় আমাকে অথবা আমার পরিবারের অন্য সদস্যদের খুন জখম করতে পারে এবং আমার ঘর বাড়ি জ্বালাইয়া দিতে পারে। অভিযুক্ত শাহজাহান মুন্সীর বক্তব্য জানার জন্য মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়, তাই তাদের বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

আইন-আদালত প্রতিদিন ভিজিট করায় আপনাকে স্বাগতম
Skip to toolbar