ঢাকা, ২৭শে সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৯ই সফর ১৪৪২ হিজরি

করোনা ভাইরাস: সচেতনতা, করণীয় ও আইনের বিধান

নিজস্ব প্রতিবেদক,

আইন আদালত প্রতিদিন;


প্রকাশিত: ৬:১১ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৯, ২০২০
করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সম্পর্কে অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে তা প্রতিরোধে সচেতনতা, সতর্কতা
 অবলম্বন ও আইনের বিধি বিধান সম্পর্কে এই তথ্যবিবরণীতে সবার প্রতি আহ্বান জানানো যাইতেছে।
প্রথমেই একটা প্রশ্ন আসে-করোনা ভাইরাস কী এবং কীভাবে রোগের জন্ম দেয়?
করোনা ভাইরাস বা যেকোনো ভাইরাস একটি জীবাণু। কোনো জীব নয়। এটি একটি প্রোটিন কণা যার উপরে ফ্যাট বা চর্বির একটি প্রলেপ থাকে। যখনই চর্বির প্রলেপযুক্ত প্রোটিন কণা চোখ, নাক ও মুখের সংস্পর্শে আসে ও শরীরের কোষগুলোর মধ্যে ঢুকে পড়ে তখন আমাদের শরীরের কোষগুলোর জিনগত সংকেতের (জেনেটিক কোড) পরিবর্তন আনার কারণে শরীরের ওই কোষগুলো ভাইরাস তৈরির কোষে পরিণত হয়।
এদের বৃদ্ধি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক অনেক বেশি। ফলে হাজার, লক্ষ ভাইরাস অতি অল্প সময়ে তৈরি হয়। জিনগত সংকেতের পরিবর্তনের ফলে এই কোষগুলো করোনা ভাইরাস সম্পৃক্ত বিভিন্ন উপাদান অনেক পরিমাণে পুরো শরীরে ছড়িয়ে দেয় এবং রোগের জন্ম দেয়।
যেহেতু এটি জীবন্ত জীবাণু নয়, একটি প্রোটিন মলিকুল মাত্র। তাই এটি মেরে ফেলার মতো কোনো বিষয় নেই। স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী যেভাবে অন্য প্রোটিন কণা ক্ষয় হয় সেভাবে এটিও ক্ষয় হয় যায়। ক্ষয় হওয়ার সময় নির্ভর করে- তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও কোনো বস্তুর উপর এটি পড়ে আছে তার ওপর।
এই ভাইরাসটি ভঙ্গুর। একটি ছোট চর্বির স্তর এটাকে রক্ষা করে। যেকোনো সাবান বা ডিটারজেন্ট কেবল ২০ সেকেন্ড ব্যবহারের ফলেই ভাইরাসটির চর্বির স্তর ভেঙে দিয়ে এটিকে অকার্যকর করতে সক্ষম। তবে মনে রাখতে হবে, প্রকৃতির দেওয়া সুরক্ষা অক্ষত ত্বক/চামড়া (এই সুরক্ষা কিন্তু নাকের ভেতরে, মুখের গহ্বর ও চোখের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। কেননা এদের বাইরের আস্তরণ দুর্বল, ত্বকের মতো না।) তাই অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করবেন না, যা হাতের চামড়া নষ্ট করে।
আমরা জানি, তাপে চর্বি গলে। তাই ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৭৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এর অধিক তাপমাত্রায় পানি দিয়ে হাত ও কাপড় ধুলে এই ভাইরাসের চর্বির স্তর ধ্বংস হয়ে তা অকার্যকর হয়ে যায়। সবাই জানি গরম পানিতে সাবানের ফেনা বেশি হয়। তাই এই রকম গরম পানির সঙ্গে সাবান ব্যবহার খুবই কার্যকর।
এবার আসা যাক অ্যালকোহল বা অ্যালকোহলের সঙ্গে মিশ্রিত উপাদান যেমন- হ্যান্ড স্যানিটাইজার অ্যালকোহল প্যাড দিয়ে পরিষ্কার এসব প্রসঙ্গে। ৬৫ শতাংশের বেশি মাত্রার অ্যালকোহল যেকোনো ভাইরাসের চর্বির স্তর ভাঙতে সক্ষম।
ভোদকা (vodka) মদ মাত্র ৪০ শতাংশ শক্তিশালী। এই মাত্রার মদ কোনো কাজে আসবে না। খেলেও কাজে আসবে না। অধিকন্তু খাদ্যনালীসহ পেটের সর্বনাশ করবে।
এই মদ খাওয়া ভাইরাস চিকিৎসার উপায় না। একইভাবে স্পিরিটও কার্যকর নয়। এটি কোনো স্যানিটাইজার নয়। অ্যালকোহল দিয়ে স্যানিটিইজার বানানোর প্রক্রিয়া অনেক ভিন্ন। সেখানে অ্যালকোহলের মাত্রা ৬৫ শতাংশের বেশি হতে হয় যা খাওয়া যাবে না। কিন্তু হাত বা ত্বক
পরিষ্কারে ব্যবহার করা যাবে।
এবার ব্লিচিং পাউডার: একভাগ ব্লিচিং পাউডার এবং ৫ ভাগ পানির মিশ্রণ ভাইরাসের প্রোটিন অংশ ভাঙতে পারে।
অক্সিজেনেটেড পানি কী কার্যকর?
হ্যাঁ, এটি সাবান, অ্যালকোহল এবং ক্লোরিনের মতই কার্যকর। কিন্তু পিউর বা বিশুদ্ধ অক্সিজেনেটেড পানি ত্বকের ক্ষতি করে। তাই ব্যবহার করা যাবে না।
ব্যকটেরিয়ানাশক (Antibiotic) কোনো কিছু কী কার্যকর?
ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার মতো জীবন্ত অনুজীব নয়। তাই এক্ষেত্রে কোনো এন্টিবায়োটিক কার্যকর নয়। মনে রাখবেন- আপনি আপনার ব্যবহৃত কাপড়, বেডশিট ঝাঁকি দেবেন না। যখন এই ভাইরাস শুধু কাপড়ের উপর পড়ে থাকে বা কাপড়ের ছিদ্রে পড়ে থাকে তা তিন ঘণ্টার মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়। তামার তৈরি কোনো জিনিসের উপর পড়ে থাকলে চারঘণ্টা, কাঠের উপর পড়ে থাকলে চার ঘণ্টা (কারণ কাঠে আর্দ্রতা নেই), হার্ডবোর্ডের উপর একদিন এবং লৌহ জাতীয় জিনিসের উপর দুইদিন থাকে। আর প্রায় তিনদিন থাকে প্লাস্টিকের উপরে। তাই যদি কাপড় বা এ সমস্ত জিনিসগুলোর ঝাঁড় বা পরিষ্কারের জন্য (Feather/Duster) ব্যবহার করেন তাহলে ভাইরাসের কণা বাতাসে ওড়ে এবং প্রায় তিন ঘণ্টা ভাসতে পারে এবং শ্বাসের সঙ্গে নাকে-মুখে ঢুকতে পারে। ঠাণ্ডায় ভাইরাসের কণা সুরক্ষিত থাকে। যেমন- ঠাণ্ডা আবহাওয়া, বাসা বাড়ি এবং গাড়িতে এসি (শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযত্র) ব্যবহার। এই ভাইরাস Molecule আবার আর্দ্রতাতেও সুরক্ষিত থাকে। যেমন- অন্ধকার।
তাই শুকনা, গরম এবং আলোকিত স্থান, ঘরবাড়ির দরজা খুলে দিয়ে আলো আসতে দেওয়া এই ভাইরাস ধ্বংস করতে সাহায্য করে। তাই বাসাবাড়ি ও গাড়িতে এসি ব্যবহার না করি। বাসাবাড়ি অন্ধকার না রাখি। আলো বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখি। যত বদ্ধ জায়গা তত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই খোলামেলা জায়গা ব্যবহার করা ভালো।
আলট্রাভায়োলেট লাইট (Ultra violet) ভাইরাসকে ভাঙতে পারে। কিন্তু এটি ত্বকের ক্ষতি করে। তাই Ultra violet লাইট দিয়ে মাস্ক (Musk) পরিষ্কার করে আবার ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু এটা ত্বকের জন্য নয়। কেননা এটি ব্যবহারে ত্বরের ভাঁজ পড়তে পারে বা ক্যান্সার হতে পারে।
মনে রাখবেন, সুস্থ ত্বক (কোনো ক্ষত নেই) ভেদ করে ভাইরাস ঢুকতে পারে না। আর ভিনেগার কার্যকর নয়। কেননা এটি ভাইরাসের চর্বি স্তরকে ভাঙতে পারে না।
আমাদের করণীয়-
১.ঘরে থাকি।
২. বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি। মাস্ক ব্যবহার করি।
৩. তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক উপরের নিয়মে ধুয়ে ব্যবহার করতে পারি (যদি বাধ্য হই)।
৪. বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। বা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
৫. প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে (যদি বাধ্য হই)।
৬. কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পড়ি (যদি বাধ্য হই (কেননা এগুলো একবার ব্যবহারের জন্য তৈরি)।
৭. চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
৮. হাঁচি কাশি যাদের আছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাইল ফোন, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা এবং বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি।
কেননা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাস থেকে যায়। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকি।
সবশেষ সেই পুরাতন উপদেশ। ধর্মীয় উপদেশও বটে। হাত পায়ের নখ ছোট করি। নিয়মিত কাটি ও ছোট রাখি। কেননা নখের নিচেও ভাইরাস লুকিয়ে থাকতে পারে। সবাই সবার জন্য চেষ্টা করি। দোয়া করি। সবাই ভালো থাকি।
আসুন আইন কি বলে জেনে নেই?
সংক্রামক রোগের জন্য বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনের বিধি বিধানে কী আছে জানতে গিয়ে দেখা যায়- দেশের জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা মোকাবেলা এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি হ্রাসকরণের লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশ্যে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৬১ নং আইন) প্রবর্তন করা হয়। এই আইনে রয়েছে মোট ৩৫টি ধারা।
সংক্রামক রোগ আইন ২০১৮ এর ৪ ধারা অনুযায়ী সংক্রামক রোগের অন্তর্ভুক্ত- ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর, ফাইলেরিয়াসিস, ডেঙ্গু, ইনফ্লুয়েঞ্জা, এভিয়ান ফ্লু, নিপাহ, অ্যানথ্রাক্স, মারস-কভ (MERS-CoV), জলাতঙ্ক, জাপানিস এনকেফালাইটিস, ডায়রিয়া, যক্ষ্মা, শ্বাসনালির সংক্রমণ, এইচআইভি, ভাইরাল হেপাটাইটিস, টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগসমূহ- টাইফয়েড, খাদ্যে বিষক্রিয়া, মেনিনজাইটিস, ইবোলা, জিকা, চিকুনগুণিয়া, এবং সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ঘোষিত কোনো নবোদ্ভূত বা পুনরুদ্ভূত (Emerging or Reemerging) রোগসমূহ।
সংক্রামক রোগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিস্তার হতে জনগণকে সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে রোগসমূহ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল, রোগের প্রাদুর্ভাবের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক সতর্কতা জারি ও পারস্পরিক সহায়তার সক্ষমতা বৃদ্ধি, সুনির্দিষ্ট ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এতদসংক্রান্ত শিক্ষা বিস্তার, রোগের উন্নতি পর্যালোচনা, অধিকার সংরক্ষণসহ অন্যান্য পদ্ধতিগত ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization) কর্তৃক, প্রকাশিত এবং তপশিলে উল্লিখিত International Health Regulations, প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ, সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রয়োগযোগ্য হবে বলে এই আইনের ৯ ধারায় উল্লেখ রয়েছে।
রোগাক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত দ্রব্যাদির বিষয়ে এই আইনের ১৩ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে- যদি কোনো ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর এইরূপ বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, সংক্রামক রোগে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির ব্যবহৃত দ্রব্যাদিতে উক্ত রোগের জীবাণু রয়েছে তাহলে তিনি, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উক্ত দ্রব্যাদি বিশুদ্ধ বা ধ্বংস করিতে পারিবেন।
রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে সাময়িক বিচ্ছিন্নকরণের বিষয়ে সংক্রামক রোগ আইন ২০১৮ এর ১৪ ধারায় বলা হয়েছে- যদি ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর এইরূপ বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, কোনো সংক্রমিত ব্যক্তিকে বিচ্ছিন্ন করা না হলে তার মাধ্যমে অন্য কোনো ব্যক্তি সংক্রমিত হতে পারেন, তাহলে উক্ত ব্যক্তিকে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, সাময়িকভাবে অন্য কোনো স্থানে স্থানান্তর বা জনবিচ্ছিন্ন করা যাবে।
মৃতদেহের দাফন বা সৎকারের বিষয়ে এ আইনের ২০ ধারার (১) উপ ধারায় বলা হয়েছে- যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক রোগে মৃত্যুবরণ করেন বা করেছেন বলে সন্দেহ হয় তাহলে উক্ত ব্যক্তির মৃতদেহ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর নির্দেশনা মোতাবেক দাফন বা সৎকার করিতে হইবে। (২) উপ ধারায় বলা হয়েছে- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়াদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে।
এই আইনের ২৪ ধারায় সংক্রামক রোগের বিস্তার এবং তথ্যগোপনের অপরাধ ও দণ্ডের বিধান বলা হয়েছে। এই ধারার (১) উপ ধারায় বলা হয়েছে- যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক জীবাণুর বিস্তার ঘটান বা বিস্তার ঘটাতে সহায়তা করেন, বা জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও অপর কোনো ব্যক্তি সংক্রমিত ব্যক্তি বা স্থাপনার সংস্পর্শে আসার সময় সংক্রমণের ঝুঁকির বিষয়টি তার নিকট গোপন করেন তাহলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ। (২) উপ ধারায় বলা হয়েছে- যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহলে তিনি অনূর্ধ্ব ৬ মাস কারাদণ্ডে বা অনূর্ধ্ব ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
এই আইনের অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধের অভিযোগ দায়ের, তদন্ত, বিচার ও আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধির বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে বলে ২৭ ধারায় বলা হয়েছে। ২৮ ধারায় অপরাধের অ-আমলযোগ্যতা, জামিনযোগ্যতা ও আপোষযোগ্যতার বিষয়ে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে- এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধসমূহ অ-আমলযোগ্য (Non-cognizable), জামিনযোগ্য (Bailable) এবং আপোষযোগ্য (Compoundable) হবে।
এছাড়াও বাংলাদেশের বিদ্যমান দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর চতুর্দশ অধ্যায়ে জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, সুবিধা, শোভনতা ও নৈতিকতা সংক্রান্ত অপরাধ সম্পর্কিত বিধান বর্ণিত হয়েছে ধারা ২৬৮ থেকে ২৯৪খ ধারায়। এরমধ্যে ধারা ২৬৯ তে বলা হয়েছে- কোন ব্যাক্তি যদি বেআইনীভাবে বা অবহেলামূলক ভাবে এমন কোন কার্য করে যা জীবন বিপন্নকারী মারাত্মক কোন রোগের সংক্রমণ ছড়াতে পারে তা জানা সত্ত্বেও বা বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও তা করে, তবে সেই ব্যক্তি ৬ মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। এই ধারার পরের ধারা অর্থাৎ ২৭০ ধারায় বলা হয়েছে- কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন বিদ্বেষমূলক কার্য করে, যা জীবনবিপন্নকারী মারাত্মক কোন রোগের সংক্রমণ বিস্তার করতে পারে এবং সে কার্য করার দরুন যে অনুরূপ রোগের সংক্রামণ বিস্তার হতে পারে তা জানা সত্ত্বেও তা করে তবে সে ব্যক্তি ২ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
লেখক
এম এ সালেহ চৌধুরী 
অ্যাডভোকেট
জজ কোর্ট, সিলেট 
চেয়ারম্যান 
হ্যাপী ওয়ার্ল্ড ফাউন্ডেশন

 223 total views,  3 views today