বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন

কমরেড পূর্ণেন্দু কানুনগর নির্দেশে ভারতে ট্রেনিং নিয়ে যুদ্ধে অংশ নেন ফজল আহমদ

কমরেড পূর্ণেন্দু কানুনগর নির্দেশে ভারতে ট্রেনিং নিয়ে যুদ্ধে অংশ নেন ফজল আহমদ

Spread the love

মোঃ আলী আকবর

বিভিন্ন পেশায় ৪৫ বছর পেরিয়েছেন আরও আগেই। ক্লান্তি ভূলে অবিরাম তার পথ চলা। এখনও ছুটে বেড়ান শহর থেকে গ্রামের জন পদে, মানুষের কাছে। সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যাস্ত রাখছেন নিজেকে। এভাবে জীবনের ৬৫ টি বসন্ত কাটিয়েও আরো কাজ করতে চান বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ । তিনি মনে করেন কর্মেই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। সবার উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে সাধারণ জনগণের জন্য কিছু করা। তিনি বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন। বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ ১৯৫৫ সালে পটিয়া উপজেলার তেকোটা গ্রামের মনোহর আলী ও ছবুরা খাতুন দম্পতির ঘরে জন্ম গ্রহণ করেন।তিনি গৈড়লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক, গৈড়লা প্রাণ হরি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক,পটিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচ এস.সি ও বিএ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএস এবং সর্বশেষ চট্টগ্রাম আইন কলেজে অধ্যয়ন করেন।তিনি কর্মজীবনে চট্টগ্রাম বন্দর,চট্টগ্রাম কাস্টম পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগ দান করে যুগ্ম পরিচালক পদ থেকে ২০১৪ সালে অবসরে যান। সরকারের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন কালে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন দেশের কল্যানে কাজ করতে। কর্মনিষ্ঠা ও সেবাই একজন বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ অনেকের জন্য আর্দশ বটে। বিভিন্ন আন্দোলন, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও কর্মজীবন নিয়ে ২৫ ই ডিসেম্বর বিকেলে অত্র প্রতিবেদককে সাক্ষাতকার দেন । তিনি বলেন, বাঙালি জাতির উপর যখন জুলম, নির্যাতন বেড়ে গিয়েছিল তখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বুঝতে পেরেছিলেন আমাদের স্বধীনতা দরকার তার সাথে সর্বভৌম রাষ্ট্রও দরকার এই প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লড়াইয়ের চক তৈরি হয়েছিল।তার পর ৬ দফা পেশ করলেন। ৬ দফা হচ্ছে শান্তিপূর্ন সহ অবস্থানের মধ্যেমে পূর্ব বাংলাকে আলদা করা।কেন স্বাধীনতা দরকার তা বঙ্গবন্ধু মানুষেকে ভালো করে বুঝাতে পরেছিলেন।ফজল আহমদ বলেন, আমি ৬৮/৬৯ সালে স্বৈরাচার আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের সময় গোপনে কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত ছিলাম।পরর্বতীতে একজন সক্রিয় কর্মী হিসাবে স্কুল জীবনে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যুক্ত হইয়েই পটিয়া থানা ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্ব চলে আসি । ১৯৭০ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেও পশ্চিম পাকিস্তান ক্ষমতা হস্তান্তর না করাই পূর্ব বাংলায় ব্যাপক জন-অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ ই মার্চের ভাষণের পর ২৫ মার্চের পর গৈড়লা স্কুল মাঠে স্হানীয় যুবকদের নিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।১৯ এপ্রিল ১৯৭১ পটিয়ায় বিমান হামলার পর স্হানীয় প্রশিক্ষণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তৎকালীন কমিউনিস্ট নেতা কমরেড পূর্ণেন্দু কানুনগোর নির্দেশে প্রশিক্ষণের জন্য ১৯৭১ সালের ৩০ শে এপ্রিল ভারতের উদ্দেশ্য দেশ ত্যাগ করেন ফজল আহমদ । তিনি ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন বিশেষ গেরিলা বাহিনীর প্রশিক্ষণ সেন্টার আসাম তেঁজপুর সেনানিবাসে গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।প্রশিক্ষণ শেষে ১১৯ নং গেরিলা দলের কমান্ডার কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলমের নেতৃত্ব বোয়ালখালী,পটিয়ায় পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর সাথে বেশ কয়েকটি সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ প্রাতিষ্ঠানিক কমান্ডার, ‘মুক্তিযোদ্ধা কালিন ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি ছাত্র ইউনিয়ন’ বিশেষ গেরিলা বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ বৃহত্তর চট্টগ্রামের সদস্য সচিব। সেক্টর কমান্ডার ফোরাম মুক্তিযোদ্ধ’৭১ চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি, বঙ্গবন্ধু সমাজ কল্যাণ পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি, চট্টগ্রাম প্রাতিষ্ঠানিক বীর মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতি লি. এর সভাপতি সহ আরো বিভিন্ন সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে সাংগঠনিক কাজে নিয়োজিত আছেন। ১৯৮৭ সালের ৬ মার্চ করা বিবাহিত জীবনে ৪ মেয়ে সন্তানের জনক তিনি ।১ম সন্তান প্রকৌশলী সাবরিনা বিনতে আহমদ (সাকি) কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার বিষয়ে পড়াশোনা করে আমেরিকায় ন্যাশনাল সাইন্স ফাউন্ডেশন, ভার্জিনিয়া কর্মরত। তার স্বামী প্রকৌশলী সাজিদ হোসেন আমেরিকার স্ট্রেয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে, সেখানেই কর্মরত রয়েছেন । ২য় সন্তান ডাক্তার সায়মুনা জেসমিন পিংকি, সহকারী সার্জন বোয়ালখালী উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ কর্মরত, তার স্বামী ডাক্তার ইফতেখার ই আজম জিয়াদ চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগে কর্মরত রয়েছেন । ৩য় সন্তান প্রকৌশলী অধ্যাপক ইফফাত বিনতে ফজল (ইমু) চুয়েট থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার বিষয়ে পড়াশোনা করে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছে তবে বর্তমানে তিনি আমেরিকান মিশিনগান স্ট্রেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন. তার স্বামী মোহাম্মদ শাহ হাফিজ কবির একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ তিনিও বর্তমানে আমেরিকান মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছেন। ৪র্থ সন্তান ফারিয়া জেসমিন প্রিমা।তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২য় বিভাগের ছাত্রী। তিনি পরিশেষে বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে । আমি আশা করি মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আরও বহু দূর এগিয়ে যাবে।

 207 total views,  2 views today

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© আইন আদালত প্রতিদিন। সর্বসত্ব সংরক্ষিত।
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web