www.ainadalatprotidin.com
  • শুক্র. জুন ২৫, ২০২১

AIN ADALAT PROTIDIN

সত্যের সন্ধানে আইন-আদালত প্রতিদিন

এসপি বাবুল আক্তারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পাঁচ বছর আগে চট্টগ্রামে মাহমুদা খানম (মিতু) হত্যার অভিযোগে চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা হয়েছে। মামলায় আসামি করা হয়েছে আরও ৭ জনকে। মামলা দায়ের করেছেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। বুধবার (১২ এপ্রিল) দুপুর পৌনে একটায় চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে নগরের ও.আর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে গুলি ও ছুরিকাঘাতে নিহত হন বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন। তবে বাবুল আক্তার মামলার বাদী হলেও তার শ্বশুর মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করে আসছেন, বাবুল আক্তার তার মেয়ের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত।

২০১৬ সালে হত্যাকাণ্ডের বছরখানেক পর থেকেই মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন দাবি করে আসছিলেন, বাবুল আক্তারের পরিকল্পনায় ও নির্দেশে তার মেয়ে মিতুকে খুন করা হয়েছে। চার বছর পরও এই দাবিতে অনড় থেকে হত্যার নেপথ্যে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন তিনি।

মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘২০১৩ সালে বাবুল আক্তার কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থাকা অবস্থায় সেখানে কর্মরত ভারতের নাগরিক এক এনজিও কর্মকর্তার (নাম প্রকাশ করা হলো না) সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। মিতু বিষয়টা জানতে পেরে তার মাকে জানিয়েছিল। এটি নিয়ে তাদের মধ্যে যখন অশান্তি শুরু হয়, বাবুল আক্তার আমার মেয়েকে নির্যাতন করা শুরু করে, আমি বিষয়টা তার ঊধ্র্বতন কয়েকজন পুলিশ অফিসারকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু উনারা আমাকে পাত্তাই দেননি। উনারা বলেছিলেন, বাবুল আক্তার সৎ-ভালো অফিসার, সে এমন কাজ করতে পারে না। অথচ শেষপর্যন্ত আমার মেয়েটা মারাই গেল। মেয়েটাকে যে বাবুল মেরেই ফেলবে, এটা আমি আর মিতুর মা কখনো ভাবিনি।’

তদন্তের শুরু থেকে নানা অসঙ্গতির তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, চট্টগ্রামের হাটহাজারী সার্কেল থেকে কক্সবাজার জেলা পর্যন্ত চাকরিকালীন বাবুলের ঘনিষ্ঠ অধঃস্তন অফিসার, বডিগার্ড, অর্ডারলি যারা ছিল, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য। কারণ তারা বাবুলের সংসারে অশান্তি এবং পরকীয়ার বিষয়টি জানত। কিন্তু তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্ন তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বারবার করেও আমি কোনো সদুত্তর পাইনি। মারা যাওয়ার পর আমার মেয়ের মোবাইলের ২৮টা এসএমএস তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে আমি জমা দিয়েছিলাম। সেগুলো নিয়ে বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা বলেছিলাম। কিন্তু সেটিও করা হয়নি।’

হত্যাকাণ্ডের পরপরই বাবুলের জড়িত থাকার বিষয়ে অভিযোগ তোলেননি কেন, জানতে চাইলে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘বাবুলের ঘনিষ্ঠ কিছু বন্ধুবান্ধব, এর মধ্যে পুলিশ আছে, সাংবাদিকও আছে, তারা শুরু থেকেই আমাদের বিভ্রান্ত করেছে। পরে আমরা বুঝতে পেরেছি যে, তারা আমাদের সামনে ভালো সেজে আমাদের মুভমেন্টটা ফলো করেছে। পরে সেটি বাবুলকে গিয়ে জানিয়ে দিয়েছে। সেটি জানার পর আমি তাদের এভয়েড করা শুরু করি। তখন আমার সামনে অনেক বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায়।’

 326 total views,  2 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *