শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন

ইন্টারনেট সেবাকে করমুক্ত রাখার দাবি

ইন্টারনেট সেবাকে করমুক্ত রাখার দাবি

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

দেশে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা প্রদানের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট। কিন্তু ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট প্রার্থী ও সরবরাহের ক্ষেত্রে রয়েছে অনেক প্রতিবন্ধক কর হার। নানা বিধ পর হার বিদ্যমান থাকায় গ্রাহকরা উচ্চ গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যদিও লক্ষ করা যায় ভ্যাট ১৫ শতাংশ। বাস্তবে ইন্টারনেটের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন পর সম্পৃক্ত থাকায় পর অনেক বেশি। যেমন, ইন্টারনেট মডেম, ইন্টারনেট ইন্টারফেস কার্ড, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সুইচ, হাব, রাউটার, সার্ভার ব্যাটারি সহ সকল ইন্টারনেট ইকুইপমেন্টের বর্তমান আরোপিত কর ১০ শতাংশ। আর এই কর শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সরকারকে বাংলাদেশে মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।

২১ এপ্রিল বুধবার বেলা ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে গ্রাহকদের পর প্রস্তাব নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ। লিখিত বক্তব্যে উদ্দিন আহমেদ বলেন, করণা মহামারীর মধ্যে জীবনযাত্রাকে সচল রাখতে একমাত্র নির্ভরযোগ্য ভরসার মাধ্যম হচ্ছে টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা। তাই এ সেবার বাজেট জাতির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জিডিপির প্রায় বর্তমানে ৭ শতাংশ অর্জিত হয়। এর পাশাপাশি যদি আমরা খাতসংশ্লিষ্ট ই-কমার্স, টেলিমেডিসিন সামগ্রিক হিসাব করি সফটওয়্যার আমদানি-রপ্তানিসহ যোগ করলে দাঁড়াবে জিটিপির প্রায় ১০ শতাংশ এতে কোন সন্দেহ নেই। একহাতে গ্রাহকদের বিনিয়োগ সবচাইতে অগ্রগামী তাই আসন্ন বাজেটে গ্রাহকদের চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা দুটোই বাজেটে পরিলক্ষিত হবে বলে আমরা আশা করি।

তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ও প্রসার নিশ্চিত করতে মোবাইল টেলিযোগাযোগ খাত অনস্বীকার্য ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে মুঠোফোন গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১৭কোটি৩৩লাখ ছাড়িয়েছে এবং মোবাইল ইন্টারনেট সেবা ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০কোটি৩২লাখ২০০৮ সালে যেখানে মাত্র ৮ জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হতো এখন করণা মহামারীর মধ্যে তা দাঁড়িয়েছে ২২০০ জিবিপিএস। কাজেই ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে আগামী অর্থবছরের বাজেটের কথা বিবেচনায় নিয়ে কর পরিবর্তনে বেশ কিছু সংস্কার অবশ্যক।

বাংলাদেশে বর্তমানে ডেটা ব্যতীত মোবাইল সেবা ব্যবহারের উপর কার্যকরী টেক্স আরোপিত রয়েছে ৩৩.২৫%(ভ্যাট ১৫%, সম্পূরক শুল্ক ১০%, এবং সারচার্জ ৫% )। এবং মোবাইল ইন্টারনেট কথা ডেটা সেবার উপর তা ২১.৭৫%(ভ্যাট ৫% সম্পূরক শুল্ক ১০% সারচার্জ ৫%) অর্থাৎ গ্রাহককে ১০০ টাকা সমমূল্যের সেবা ব্যবহার করতে গেলে আরো ৩৩.২৫ টাকা টেক্সট আকারে দিতে হয়, যা ডাটার ক্ষেত্রে ২১দশমিক ৭৫টাকা। এখানে উল্লেখ্য যে গত বছরের বাজেটে সম্পূরক শুল্ক ১০% থেকে বৃদ্ধি করে ১৫শতাংশ করা হয়েছিল।
আমরা জানি বাংলাদেশ সরকার গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মোবাইল অপারেটরদের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে প্রায় ১০০ শতাংশ মোবাইল নেটওয়ার্ক কভারেজ রয়েছে, কিন্তু একক গ্রাহক বিবেচনায় তা ৫৪% মানুষ মোবাইল সেবা ব্যবহার করছে। এখনো মোবাইল সেবার বাইরে রয়েছে আরও ৪৬ শতাংশ গ্রাহক। এরপর নতম কারণ হিসেবে দায়ী করা হয় উচ্চ কর হার।

নতুন সিম সংযোগ ক্রয়ের ক্ষেত্রে এখন সিম প্রতি ২০০ টাকা ভ্যাট প্রযোজ্য। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনায় ইনটেক্স মোবাইল সেবা গ্রহণের পথে একটি বড় অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে। এস এম টেক্স প্রত্যাহার করা না হলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে মোবাইল সেবা ব্যবহারের গতি সঞ্চার এর আশা করা যায় না।

মোবাইল টেলিযোগাযোগ সেবার বাজারে এক সময় ৬টি অপারেটর সেবা দিল বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ টি অপারেটরের মধ্যে। মোবাইল সভার উচ্চ মান নিশ্চিত করতে অপারেটরদের অধিক স্পেক্ট্রাম অধিগ্রহণ জরুরী। সদ্য সম্পন্ন স্পেক্ট্রাম নিলামে সকল স্পেক্ট্রাম বিক্রি হয় আমরা সরকার ও অপারেটর এবং কমিশনকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। কিন্তু নিলামের সময়কাল ও অপারেটর ভেদে স্পেকট্রাম ক্রয়ের ক্ষেত্রে তাদের আর্থিক সক্ষমতা পর্যালোচনা করলেই এটি পরিষ্কার যে অনেক মোবাইল অপারেটর টেকসই অবস্থানে নেই। আমরা কত ২০১১-১৫ এর সাথে ২০১৬-২০ সময়কাল টেলিযোগাযোগ খাতের সম্মিলিত সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ পরিমাণ তুলনা করে দেখতে পেয়েছি পরবর্তী ৫ বছরে তা ৩৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
এর পিছনে বড় একটি কারণ উচ্চ কর্পোরেট কর হার। (শেয়ারবাজারে অন্তর্ভুক্ত হলে ৪০ শতাংশ না হলে ৪৫ শতাংশ সাধারণ হার ৩২.৫ শতাংশ ও ২৫ শতাংশ) এবং ইউরোপ অন্যতম 2% কর যা অন্যান্য খাতের তুলনায় বেশি।(ন্যূনতম পর তামা খাতের ওপর 1% একক কোম্পানির ক্ষেত্রে তা ০.৫ শতাংশ এবং অন্যান্যদের ওপর ০.৬ শতাংশ)। অন্যান্য দেশের সাথে তুলনা করলে দেখা যায় বাংলাদেশ কর্পোরেট কর হার সবচাইতে বেশি যেমন ভারতে ২২ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ২৮ শতাংশ, নেপালে ৩০ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ২৪ শতাংশ এমনকি আফগানিস্থানে ২০ শতাংশ। কর্পোরেট কর কমাতে আমরা এই জন্যই সরকারের কাছে আহবান জানাচ্ছি যে এই কর্পোরেট পরও গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা হয় পরোক্ষভাবে।

 176 total views,  2 views today

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© আইন আদালত প্রতিদিন। সর্বসত্ব সংরক্ষিত।
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web