বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০১:০১ পূর্বাহ্ন

আদালত ভবন এলাকাকে দূর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে জেলা প্রশাসান

আদালত ভবন এলাকাকে দূর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে জেলা প্রশাসান

ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আদালত ভবন এলাকাকে দূর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে জেলা প্রশাসান

-আইনজীবী সমিতির সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী নেতারা।

 

মোঃ আলী আকবর, চট্টগ্রাম 

 

সমিতির জায়গা, স্হাপনা ইত্যাদি সংক্রান্ত জেলা প্রশাসন থেকে উদ্দেশ্যপূর্ণ ভাবে প্রধানমন্ত্রী সহ বিভিন্ন দপ্তরে সত্য গোপন করে গোপন প্রতিবেদনের মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে যা মানহানি কর বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। গতকাল ১৯ সেপ্টেম্বর রবিবার সমিতির অডিটোরিয়ামে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মাধ্যমে এই আভিযোগ করেন। আইনজীবী সমিতি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সঙ্গে রয়েছে এ সমিতির আত্মার বন্ধন,১৯৮৮ সালে ২৪শে জানুয়ারি তৎকালীন স্বৈরশাসকের পুলিশ বাহিনীর গুলির মুখে চট্টগ্রামের আইনজীবীরা নিজেদের মানব ঢাল বানিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর জীবন রক্ষার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন।সেই থেকে চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতি দেশ নেত্রীর কাছে যখন কোন সাহায্যের জন্য গিয়েছেন নেত্রী দুই হাত ভরে দিয়েছেন, সমিতি বেআইনি কোন ভবন করলে নেত্রী কোন সাহায্য দিতনা। আইনজীবী সমিতির সাথে সেই আত্মার বন্ধ বিনষ্ট করার জন্য মিথ্যা তথ্য দিয়ে অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন।প্রকৃত সত্য হচ্ছে যে,সম্প্রতি সংস্কারকৃত ও পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষিত পুরাতন আদালত ভবনের সম্মুখে খালি জায়গায় জেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রশাসনের গাড়ি পার্কিং করার জন্য গেইট নির্মাণপূর্বক ঘেরাও দিয়ে নিজেদের গাড়ি রাখার জন্য সুরক্ষিত করার চেষ্টা করে নির্মাণ সামগ্রী আনা হয়। ঐ খালি জায়গাটি দীর্ঘদিন যাবত সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য উম্মুক্ত ছিল। উক্ত কাজে আইনজীবী সমিতি বাঁধা দেয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন চাপের মুখে জেলা প্রশাসন কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়।পরে গত ৩রা আগস্ট এই বিষয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণও করা হয়।

 

সংবাদিক সম্মেলনে আইনজীবী সমিতি বলেন, জেলা প্রশাসনের ছত্র ছায়ায় এল,এ শাখা দূর্নীতির বিষয় ওপেন সিক্রেট, ২০%-৩০% কমিশন ছাড়া জমি অধিগ্রহণের কোন চেক হস্তান্তর হয় না।কমিশনের উক্ত টাকা জেলা প্রশাসকের সকল স্তরে বন্টন হয়।যা বিভিন্ন সময় পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এসেছে। পুরাতন আদালত ভবন এলাকাকে দূর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিনত করেছে জেলা প্রশাসন।সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের এল.এ শাখার কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী রাতের আঁধারে ঘুষ-দূর্নীতিতে লিপ্ত থাকা অবস্থায় সমিতির নেতৃবৃন্দ ধৃত হয় এবং পরবর্তীতে তাদেরকে জেলা প্রশাসনের নিকট সোপর্দ করে।

 

সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বর্তমান জেলা প্রশাসক মোঃ মমিনুর রহমান যোগ দানের পরই এক অনুষ্ঠানে বলেন “কিছু আইনজীবী আছেন- যারা কিন্তু গ্রাম- গঞ্জে মানুষকে সবসময় ইন্ধন দেন উসকানি দেন দেন -যে যেটা এটা হয়েছে, একটি মামলা টুকে দেন” যা বিগত ২৬ শেষ ফেব্রুয়ারী জাতীয় ও স্হানীয় দৈনিকে চাপানো হয়। এধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মানহানিকর বক্তব্যের জন্য সমিতির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল।

 

সমিতি বলেন, বিগত ১৭ ই আগস্ট সিডিএ কতৃক প্রেরিত পত্রে স্পষ্টই উল্লেখ রয়েছে যে,কোর্ট হিল এলাকায় অনুমোদনহীন স্হাপনাগুলো থেকে জেলা প্রশাসন কর্তৃক ভাড়া উত্তোলন করা হয়।কোর্টহিল রোডে অসংখ্য দোকান-পাট,হকার থেকে জেলা প্রশাসন মাসিক /দৈনিক ভিত্তিতে ভাড়া উত্তোলন করে। আদালত পাড়ায় পাহাড়ের ঢালুতেও জেলা প্রশাসনের অনেক কাঁচা-পাকা ভাড়া ঘর রয়েছে এগুলো মধ্যে পূর্বের জেলা প্রশাসন কর্তৃক ভিত্তি স্থাপন কতৃক ক্যান্টিনও রয়েছে,যে গুলো থেকে মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া উত্তোলন করা হয়। এমনকি পূর্বের জেলা প্রশাসন কালেক্টরাল মসজিদের চাদটি পযর্ন্ত মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোকে ভাতা দিয়েছে। এই সব অবৈধ ও অনুমোদন বিহীন স্হাপনা সমূহ উচ্ছেদের ব্যবস্হা না নিয়ে জেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে সমিতির স্হাপনা সমূহ নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে পত্র প্রেরণ করে মিথ্যাচার করে আসছে।যা মানহানীর পর্যায়ে পড়ে। আইনজীবীদের বিরুদ্ধে যে সকল অসৌজন্যমূলক কথা বার্তা বলছেন তা প্রত্যাহার না করলে আমরা আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ গ্রহণ করব।আইনজীবী সমিতি বলেন আমরা সংঘাতে যেতে চাই না আমরা আইনগত ভাবে মোকাবিলা কবর। সংবাদ সম্মেলনের সস্ক্রিপ্ট পাঠ করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড. এ এইচ এম জিয়া উদ্দিন, সাংবাদিকদের ভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সভাপতি এড. এনামূল হক,সাবেক সভাপতি এড.আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী, এড.মুজিবুল হক,আরো উপস্থিত ছিলেন, সাবেক সভাপতি এড.দেলোয়ার হোসেন, এড.মোক্তার আহমেদ,এড. বদরুল আনোয়ার, এড.কপিল উদ্দিন চৌধুরী, এড.আব্দুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন এড.আনোয়ার হোসেন, এড.সালাউদ্দিন হায়দার সিদ্দিকী, সমিতির সহ সভাপতি সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, এড.বার সহসম্পাদক আবদুল আল মামুন, অর্থ সম্পাদক এড.ওয়াহিদুল্লাহ, পাঠাগার সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মঞ্জুরুল আজম চৌধুরী ,তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক এড.মাহবুবু উল আলম চৌধুরী মারুফ, বিশিষ্ট মানবাধিকার নেতা ও আইনজীবী জিয়া হাবিব আহসান , সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য এড. ফাতেমা নার্গিস হেলেনা,মারুফ মোহাম্মদ নাজেবুল আলম, এস এম আরমান মহিউদ্দিন,আবু নাছের রায়হান, সাহেদা বেগম,খাইরুন নেছা,জোহরা সুলতানা মুনিয়া, নুর কামাল, মোঃ সরোয়ার হোসাইন লাভলু, .মোমেনুর রহমান, সাবেক আইটি সম্পাদক এড. রাশেদুল আলম রাশেদ সহ সমিতির বর্তমান, সাবেক নেতৃত্বদৃন্দ ও সমিতির বিপুল সংখ্যক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

© আইন আদালত প্রতিদিন

 13,473 total views,  1 views today

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© আইন আদালত প্রতিদিন। সর্বসত্ব সংরক্ষিত।
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host R Web